চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি

এক শ্রেণির ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্রাকটিসে ব্যস্ত। ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগিরা হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার দুদক আট জেলায় অভিযান চালায়। এ সময় ঢাকার হাসপাতালে নিয়োজিত থাকা মোট চিকিৎসকের ১০ ভাগই ছিলেন অনুপস্থিত। আর ঢাকার বাইরে ৬১ শতাংশের বেশি। বলার অপেক্ষা রাখে না চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকদের সর্বপ্রথম কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে- এর কোনোই বিকল্প নেই। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, তাতে জনমতেরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমরা মনে করি।

গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। যারা এটি পারবেন না তাদের চাকরি ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, যে ডাক্তার জেলায় যাবেন না তার দরকার নেই। চিকিৎসকদের যেখানে বদলি করা হবে তারা যদি সেখানে কাজ না করেন তবে তাদের ওএসডি করে নতুন ডাক্তার নিয়োগ দিতে হবে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ওএসডি করতে হবে। গত এক দশকে ঢাকার বাইরে জেলা-উপজেলায় থাকার ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। সুযোগ-সুবিধাও বেড়েছে। আরো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রতিটি উপজেলা সদর এখন অনেক উন্নত। এমনিতেও অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখন ঢাকা না ছাড়ার পেছনে এসব অজুহাত খাটে না। চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিতি এবং রোগিদের যথাযথভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা কঠোর নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে সবাইকে যথাযথ দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হতে হবে।