চালে উদ্বৃত্ত, লক্ষাধিক টন রফতানির অনুমতি : বাণিজ্যমন্ত্রী

চালে উদ্বৃত্ত, লক্ষাধিক টন রফতানির অনুমতি : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে এখন চাহিদার তুলনায় বেশি চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত এক থেকে দেড় মাসে লক্ষাধিক টন চাল রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সপ্তম ‘বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০১৯’-এ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা সময় খাদ্যের অভাব ছিল, সবজির অভাব ছিল কিন্তু এখন দিন পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্য ও কৃষিতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্য দরকার তার ৭০-৮০ ভাগ দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি মানুষেরও দৃষ্টি পাল্টেছে। প্যাকেটজাত খাবার যেমন তৈরি হচ্ছে তেমনি মানুষও এখন বেছে বেছে ভালো খাবারগুলো খেতে শুরু করেছে।

টিপু মুনশি বলেন, এতদিন শুনতাম দেশের আলুতে চিপস তৈরি হয় না। কিন্তু আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলো এখন যে চিপস তৈরি করছে তা দেশের আলু দিয়েই; যা আন্তর্জাতিক মানের। এভাবে শুধু দেশেই নয় বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাবার। এখন এ খাতে ৩৭৩ মিলিয়ন ডলার রফতানি হচ্ছে। যা বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

রফতানি বাড়াতে এ খাতের প্রদেয় নগদ সহায়তার পাশাপাশি সরকারি অন্য সব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ব মানের পণ্য তৈরির পরামর্শ দিয়ে টিপু মুনশি বলেন, খাদ্যের মানের দিকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। কারণ বিদেশে পণ্য যাচ্ছে সেখান থেকে কেউ যাতে বলতে না পারে বাংলাদেশের পণ্য খারাপ বা মানসম্মত নয়।

এগ্রো প্রসেসিং সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক আশা কারণ সামনে বাংলাদেশে দুটি খাত বেশি সম্ভাবনাময়। এর মধ্যে অন্যতম লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত।

আজকে মেলায় অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের আধুনিক মেশিন নিয়ে এসেছেন। এর মানে এ দেশে সম্ভাবনা আছে তাই তারা এসেছেন।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, পণ্যের গুণগত মান সঠিক হলে গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়ে। এজন্য মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, দেশের রফতানি খাত খুব কম সংখ্যক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এতে করে কোনো একটি পণ্যের রফতানি বাধাগ্রস্ত হলে পুরো রফতানি বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
এজন্য রফতানিতে নতুন নতুন পণ্য এবং খাতকে উন্নত করতে হবে।

তিনি বলেন, রফতানি খাতের ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সর্বশেষ কোয়ার্টারে সারাবিশ্বে পোশাকের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল এই কারণে আমাদের রফতানি কমে গেছে। তাই রফতানি বাড়াতে নতুন নতুন সেক্টরের দিকে মনোযোগী হতে হবে।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী বলেন, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কাছে আমরা আরও বেশি সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। আমাদের প্রয়োজনীয় সেবাগুলো যাতে আরও সহজে দ্রুত সময়ে পাই সে বিষয়ে বিএসটিআইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ও সঠিক পরামর্শ আমাদের এ খাতকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)-এর সভাপতি এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর শনিবার ছিল শেষ দিন। ফুড প্রসেসিং খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো মেলায় অংশগ্রহণ করে।

প্রয়াত শিল্প উদ্যোক্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরী ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৩ জন সদস্য নিয়ে বাপার যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে বাপার সদস্য সংখ্যা ৩০০, যারা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বিশ্বের ১৪৪টি দেশে রফতানি করে চলেছেন। বিগত অর্থবছরে খাদ্য রফতানির মাধ্যমে বাপার সদস্যরা ৩৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন। এই রফতানির পরিমাণ ২০২১ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে বাপা বদ্ধ পরিকর।