চালবাজিতে গরিবের সংখ্যা বেড়েছে

চালবাজিতে গরিবের সংখ্যা বেড়েছে

চলতি বছরের শুরু থেকেই চালের দাম বেড়েছে। যেটা রেকর্ড সৃষ্টিকারীও বলা যেতে পারে। মোটা চাল ৫৫-৬০ টাকা কেজি বছরের অধিকাংশ সময় ধরেই চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন চালের দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগীর কারণেই চালের দাম বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত গত রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, চালের দাম যে হারে বেড়েছে, এটা অসহনীয়। এতে সাধারণ মানুষের অনেক অসুবিধে হচ্ছে। অপরদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) বলছে, বাংলাদেশে কত কয়েক মাসে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে পাঁচ ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ গরিব হয়ে গেছে। আগে তারা দারিদ্র সীমার ওপর ছিল, এখন দারিদ্র সীমার নিচে নেমে গেছেন।

 সানেম বলছে, এদের পক্ষে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব। এখন আমনের ভরা মৌসুম। প্রতি বছর এই সময় চালের দাম কমলেও এবার উল্টো চিত্র। গত দুই সপ্তাহে প্রতি কেজিতে চাল ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমদানি শুল্ক কমানো, সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি, আমনের ভরা মৌসুম সবকিছু মিলিয়ে যখন দাম আরো কমার কথা তখন দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয় এক শ্রেণীর চালকল মালিক এ সংকটাপন্ন অবস্থাকে মুনাফা লুটের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।

 শুরু থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণের জুতসই ব্যবস্থা না থাকায় একটি ‘সিন্ডিকেট’ যা ইচ্ছা তাই করার স্বাধীনতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, সরকার যদি এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারসাজির বিষয়টি বুঝতেই পারে, তাহলে পুরো বছর ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিল না কেন ? সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে যে সব বিবেকবর্জিত অসৎ ব্যবসায়ী, তাদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।