চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

সীমিত আয়ের মানুষ, যাদের প্রতিদিনের ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়, সেই মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ব্যয় আরও বেড়ে যাবে আসন্ন অর্থ বছরের বাজেট বাস্তবায়িত হলে। একেবারেই দরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে কিছু বরাদ্দ থাকলেও সেই বরাদ্দ তাদের কাছে যথাযথভাবে আদৌ  পৌঁছবে কিনা, এ নিয়েও সংশয় রয়েছে। নীতির সুফল ভোগে বিলম্ব হলেও করের ছোবল কিন্তু ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির ঘাড়ে এসে পড়েছে। স্বল্প ও মাঝারি আয়ের মানুষের খরচ ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির ঘাড়ে এসে পড়েছে। স্বল্প ও মাঝারি আয়ের মানুষের খরচ ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। তবে এর আঁচ খুব একটা লাগবে না অপেক্ষাকৃত ধনীদের। প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পদশালীদের করমুক্ত সম্পদ সীমা বাড়ানো হয়েছে। তদুপরি ব্যবসায় ও শিল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে তারা পাবেন নগদ সহায়তা, করের ক্ষেত্রেও থাকছে ছাড়। সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা এমনটিই মনে করছেন। সিপিডিও মনে করে উচ্চ বিত্তের সুবিধা দিয়েছে বাজেট, বরাবরের মতোই চাপে পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির রোড ম্যাপ নেই। দক্ষ মানব সম্পদ গড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন স্পষ্ট পরিকল্পনা অনুপস্থিত। বাজেট পর্যবেক্ষণ করে এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শুক্রবার রাজধানীতে এক বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বড় দুর্বলতা আয় বৈষম্য। এদিকে ধনী-দরিদ্র ব্যবধানের বর্তমান প্রবণতা বন্ধ হওয়ারও নিশ্চয়তা নেই। বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের কেনো রোডম্যাপ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ দেশে বর্তমানে অদক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে তা কীভাবে রোধ করা যাবে তার নির্দেশনা নেই। জনজীবনে স্বস্তি দিতে এ সময়ে যে কোনো মূল্য সন্ত্রাসে যেন জর্জরিত হতে না হয়; বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।