চাটখিলে পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

চাটখিলে পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক কিশোরীকে (১৫) তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নের রমাপুর গ্রামে এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ মেয়েটির পরিবারের। তাছাড়া মামলা করায় তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

হাসপাতালেরর আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আনোয়ারুল আজিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। সাহাপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের ওই কিশোরীর মা বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি মেয়ে রমাপুর গ্রামে মামা বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাতে নোয়াখলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান শরীফ, কামাল ও জামালসহ ছয়জন পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর বাড়ির পাশে ফেলে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনা চাটখিল থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি মজিবুর রহমান শরীফের নাম বাদ দিয়ে জামাল ও কামালের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ।

মামলা করায় মঙ্গলবার রাতে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে এসে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে ওই কিশোরীর মা। আসামির নাম থেকে শরীফকে বাদ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে চাটখিল থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন, বাদী শরীফের নাম দেয়ই নাই; বাদ দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। ১০ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে জামাল ও কামাল নামে দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা করেছেন।

“মামলা নথিভুক্ত করে মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এছাড়া যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় গ্রেপ্তারে দেরি হচ্ছে।” বাদীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ বোমা বিস্ফোরণের কোনো আলামত পায়নি।  আর হুমকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে চাটখিল উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক চাটখিল পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ উল্লাহ পাঠোয়ারী বলেন, যুবলীগ নামধারী একটি পক্ষ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যে এই ধরনের অপপ্রচার চালাতে পারে।

“তবে কারো বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পেলে তার দায়িত্ব সংগঠন নেবে না।”