পৌরসভার পানি পাঠানো হয়েছে আইসিডিডিআরবি’তে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ ডায়ারিয়ার প্রকোপ হাসপাতালে ভর্তি ৮৫ রোগী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ ডায়ারিয়ার প্রকোপ হাসপাতালে ভর্তি ৮৫ রোগী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে হঠাৎ করেই ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত মাত্র ১৪ ঘণ্টায় ৬০ জন ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে রোগি আসা অব্যাহত রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিকে ও বাড়িতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন কিছু রোগি।বুধবার পর্যন্ত রোগি ভর্তি ছিলেন ২৩ জন বলে জানিয়েছেন জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার রফিকুল ইসলাম। রোগিদের বেশিরভাগই শহরের হরিপুর ও দারিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও শহরের নামোরাজারামপুর, নিমগাছি, আলীনগর এলাকার কিছু রোগি রয়েছেন। প্রয়োজনীয় শয্যার অভাবে রোগিদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। অব্যাহত রোগির চাপে এখন মেঝেতেও স্থান পাওয়া যাচ্ছে না।

হঠাৎ করে সৃষ্ট এই ডায়ারিয়া সমস্যা সম্পর্কে সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, বুধবার রাত ১০টা থেকে হটাৎ করে শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে বেশি পরিমান রোগি আসা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি রোগির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫ জনে। ধারণা করা হচ্ছে পৌরসভা সরবরাহকৃত পানির লাইন সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। ওইসব এলাকার পানি পরীক্ষার জন্য ঢাকা আইসিডিডিআরবি’তে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ডায়ারিয়া ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ১০টি। রোগিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওআরএস (খাবার স্যালাইন) ও অনান্য কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগিদের বাইরে থেকেও কিনতে হচ্ছে কিছু ওষুধ। এছাড়া হাসপাতালে কলেরা স্যালাইনের সংকট রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন। তিনি হাসপাতালে প্রকট চিকিৎসক সংকটের (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) কথা স্বীকার করে বলেন, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নাদিম সরকার’সহ ৩ জন চিকিৎসক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছেন।

সিভিল সার্জন আরও জানান, পৌর মেয়রের সাথে কথা বলে শহরের আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পানি ফুটিয়ে খাবার জন্য মাইকিং করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হাসপাতালে রোগিদের ও আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেবার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতি সাময়িক।পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, পানি পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে পৌর সরকরাহকৃত পানি থেকে এই ডায়ারিয়া ছড়িয়েছে। পৌর কর্মীরা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিক্ষা করে এমন কোন লিকেজ পায়নি।