চলেই গেলেন নুসরাত

চলেই গেলেন নুসরাত

  না। বাঁচানো গেল না কিছুতেই। বড় অভিমান নিয়ে শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন চিরতরে দুর্বৃত্তদের আগুনে ঝলসে যাওয়া ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। জীবনের বিনিময়ে মানবতার গালে চরম চপেটাঘাত করেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মারা গেছেন (ইন্না..রাজিউন) তিনি। তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা নুসরাতকে ধর্ষণ করেছেন এ মর্মে তার মা থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষ গ্রেফতার হন। এই মামলা তুলে নিতে নুসরাতের ওপর চাপ-করা হয় এবং গত ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে কতিপয় মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। এরপর থেকে অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নির্যাতনরোধে আইন থাকলেও তা নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে নুসরাতের লেখা একটি চিঠি বাড়িতে পড়ার টেবিল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘আমি লড়ব শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত’। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল করিম বলেছেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা এমন সাহস পাচ্ছে। শুধু আইন করলেই সমাধান নয়। আইনের প্রয়োগ না করতে পারলে মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে’। সর্বোপরি বলতে চাই, নুসরাতের ওপর আগুন সন্ত্রাসের ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়, যা করতে হবে প্রশাসনকেই। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে পঙ্কিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাবে সমাজ।