পানি শূন্য বড়াল নদী

চলনবিলের ৮ উপজেলায় নৌ-চলাচলে অচলাবস্থা

চলনবিলের ৮ উপজেলায় নৌ-চলাচলে অচলাবস্থা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব ও জলবায়ু পবিরর্তনের কারনে এক সময়ের ¯্রােতশীণি বড়াল নদী এখন পানিশুন্য। নদীর তলদেশে এখন ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। চলনবিল অঞ্চলের এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীটি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ড্রেজিংয়ের অভাবসহ রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মায় বড়ালের মুখে অপরিকল্পিত রেগুলেটর স্থাপনের ফলেও দিন দিন নাব্য হারিয়ে সংকীর্ণ হচ্ছে।

নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় চলনবিলের ৮ টি উপজেলার মধ্যে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলে নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। চলনবিল অঞ্চলে ফসল উৎপাদন ও অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য বড়াল নদী এবং পদ্মার উৎসমুখে একটি রেগুলেটর স্থাপন করা হয় আশির দশকে। কিন্তু ভুল পরিকল্পনার কারণে এ সøুইসগেট নির্মাণে ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগেরও বেশি সময় পদ্মার পলিযুক্ত পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বড়াল নদীতে বন্ধ থাকায় নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে।

এতে রাজশাহীর চারঘাট বড়াল রেগুলেটর থেকে পাবনার চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া, ফুরিদপুর সহ নাটোরের গুরুদাসপুর, লালপুর,বড়াইগ্রাম, সিংড়া,সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশসহ আশপাশের উপজেলার প্রায় ২৫ লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পদ্মার স্রোতধারা এখন আর বড়াল নদীতে প্রবাহিত হয় না। ফলে বড়াল রেগুলেটর হতে গুরুদাসপুর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর হয়ে নদী পথটি পলি পড়ে প্রশস্থতা ও গভীরতা হারিয়ে গেছে। নদীর দু’পাড়েই গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। মানুষ এখন নদীর তলদেশে চাষ করছে বিভিন্ন ফসল।

সড়ক পথে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে নৌপথে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও আরিচা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন করে আসছিল। এখন নৌপথ বন্ধ থাকায় সড়ক পথে অধিক খরচে পণ্য পরিবহন করতে হয়। বড়াল নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের ১০ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের কারনে নদীটির একটি স্লুইসগেট ও তিনটি ক্রসবাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। নদী পূনঃখননের দাবীটিও অচিরই বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।