চলনবিলে পানি না থাকায় জীবন সংকটে জেলেরা

চলনবিলে পানি না থাকায় জীবন সংকটে জেলেরা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : ভাল নেই চলনবিল অঞ্চলের জেলেরা। মৌসুম ও প্রকৃতিতে চলছে বর্ষাকাল। আষাঢ়-শ্রাবণ মিলে ঋতু বর্ষা। আর বর্ষা মানেই মুশলধারে বৃষ্টি, চলনবিলের খালবিলে পানি থৈই থৈই করে ডুবে থাকা। এ যেন এক চিরচেনা দৃশ্য। অথচ আষাঢ় মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসেও মিলছে না বৃষ্টি। চলনবিলের খালে পানি নেই। হতাশ চলনবিল অঞ্চলের জেলেরা। পানি না থাকলে তারা মাছ ধরবে কিভাবে। চলনবিলের জেলেরা হতাশা হয়ে বাড়িতে বসে বসে পানির অপেক্ষা করছে। কখন পানি আসবে, কখন মাছ ধরবে। চলনবিল অঞ্চলের নদীতে জোয়ারের পানি থাকলেও খাল-বিলে পানি নেই। তারপরও নেই বৃষ্টি।

 তীব্র তাপমাত্রায় জনজীবন অতিষ্ঠ। এক সময় বর্ষা মৌসুম আসলেই চলনবিল পানিতে টইটুম্বুর হয়ে থাকতো। জেলেরা মেতে উঠতো মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরতে। মিলতো নানা প্রজাতির মাছ। সেই মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আবার দেশ বিদেশে রপ্তানি হতো। পরিবার পরিজন নিয়ে সচ্ছলভাবে দিন কাটাতো তারা। কিন্তু প্রকৃতির এই হঠাৎ নিষ্ঠুর আচরণে নেই জেলেদের মুখে হাসি। পানি নেই, মাছ নেই। সংসার চলবে কি করে। চলনবিলের জেলেদের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা অঞ্চলের জেলে মো.আফজাল হোসেন বলেন, এ সময় চলনবিলের মাছ ধরেই আমরা আমাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। বছরের অন্য মৌসুমে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাই। কিন্তু এবার মাঝ বর্ষার সময় হলেও আমাদের চলনবিলে পানি আসেনি। তাই আমরা অনেক চিন্তিত। কারণ মাছ বিক্রি করেই আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনাসহ সংসারের যাবতীয় খরচ যোগাতে হয়। যত দ্রুত পানি আসবে, ততই আমাদের মঙ্গল। তা ছাড়া না খেয়ে থাকতে হবে। গুরুদাসপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর বলেন, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিতভাবে চলনবিলের খাল বিল ব্যবহার করায় আজ এই অবস্থা। বৃষ্টি না হলে চলনবিলের জেলেদেও সংসার সংকটে পড়বে। আমাদের পক্ষ থেকে জেলেদের সকল ধরণের সহযোগিতা করা হয়। তবে বর্ষার পানি আসলেই জেলেদের এই দুর্ভোগ থাকবে না।