চলতি বছর থেকেই জামা-জুতা-ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা : প্রতিমন্ত্রী

চলতি বছর থেকেই জামা-জুতা-ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা : প্রতিমন্ত্রী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের বিনামূল্যে জামা, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ করা হবে। আর এটি চলতি বছর থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় ও মা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মা সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক আর বাসস্থান হলো সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই সন্তানকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে মাকে শিক্ষার প্রতি সচেতনতা সৃষ্টি করাসহ বাসস্থান বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

জাকির হোসেন বর্তমান সরকারের এক বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ হিসেবে জুতা, ড্রেস ও ব্যাগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে এটি কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, নিজস্ব বর্ণমালায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীর কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুভর্তি শতভাগ ধরে রাখা, ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার প্রবণতা রোধ এবং ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় মিড-ডে মিল ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণিত অলিম্পিয়াড কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিত শিক্ষা ভীতিহীন ও আনন্দঘন পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড (দিনে একটি করে শব্দ শেখা) কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ইংরেজিতে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

স্বচ্ছতার মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়োগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষকদের বদলি ও পেনশন প্রাপ্তি সহজকরণ প্রক্রিয়া চলমান আছে, যা অচিরেই কার্যকর হবে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন, ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া ও মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু উপস্থিত ছিলেন।