চট্টগ্রামের বাসায় স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

চট্টগ্রামের বাসায় স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার এক বাসায় ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার সকালে মেয়েটিকে তার মা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান।

তিনহা বিনতে নাছির নামের ১২ বছর বয়সী মেয়েটি নগরীর মেরন সান স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। তাদের বাসা বাকলিয়া থানাধীন ডেনমার্ক আবাসিক এলাকার লায়লা ভবনে। বাবা মোহাম্মদ নাছির সৌদি আরবে থাকেন।

এএসআই আলাউদ্দিন বলেন, নাছিরের স্ত্রী নাসরিন আক্তার খুশবু সকালে তাদের মেয়ে তিনহাকে গলা কাটা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ঘটনার পরপরই বাকলিয়া থানা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে।   

মেয়েটির মা খুশবু বলেন, তার তিন মেয়ের মধ্যে তিনহা সবার বড়। সকাল ৮টার দিকে তিনি মেজো মেয়েকে স্কুলে দিতে বাইরে যান। ঘরে তখন তিনহা আর আড়াই বছর বয়েসী ছোট মেয়ে ছিল।

খুশবু বলছেন, ৯টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি ঘরের দরজা আধা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনহার ঘরে গিয়ে তাকে বালিশ চাপা অবস্থায় শোয়ানো দেখতে পান।

“ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বালিশ তুলে দেখি রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তখন পাশের বাসার আমার জাকে ডাক দিই চিৎকার করে। পরে মেয়েকে নিয়ে মেডিকেলে যাই।”

খুশবু জানান, তাদের তিন কক্ষের বাসায় তিন মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে তিনি থাকতেন। ঈদে সাতকানিয়ায় গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পর এখনও ফেরেননি তার শাশুড়ি।

আর যে ঘরে তিনহাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, তার পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তার ছোট বোন।

ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায় ঘরের আলমারির কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছ, দেখে মনে হয় যেন তছনছ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, আলমারি থেকে তাদের বেশ কিছু গয়না খোয়া গেছে। তবে শোবার ঘরের ওয়ারড্রব অক্ষত আছে।

খুশবুর বড় জা জেবুন্নেছা বলেন, সকালে খুশবু তার মেয়ের এ পরিস্থিতি দেখে আহাজারি করতে করতে এক পর্যায়ে নিজের ‘হাত কেটে আত্মহত্যা’ করার চেষ্টা করেন। পরে তার হাতে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।

ছয় তলা লায়লা ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠতলায় নাছির ও তার তিন ভাইয়ের পরিবার থাকে। নাছিরের পরিবার থাকে পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে। আর নিচ থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া।

নাছিরের মত তার তিনভাইও সৌদি আরব প্রবাসী। তাদের আরেক ভাই পরিবার নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর ঢেমশা গ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে থাকেন।

বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ওই বাসার আলমারির কাপড় তছনছ করা হলেও বেশকিছু ইমিটেশনের গয়নায় হাত দেওয়া হয়নি।

আলমারি ভাঙার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আলমারির চাবি ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল।

“আমরা সব কিছু খতিয়ে দেখছি। সব দিক মাথায় রেখেই পুলিশ তদন্ত করছে।”

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, এর আগেও বাকলিয়া এলকায় এক নারীর গলা কেটে অলঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনা ঘটেছিল।

“যেহেতু বাড়ির মালিক প্রবাসী, এখানেও তেমন কিছু ঘটেছে কি না- তা আমরা খতিয়ে দেখব । আবার পারিবারিক কোনো বিষয় আছে কিনা তাও দেখা হবে। মেয়ের মাকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”