গ্রিন হাউস গ্যাস বন্ধে ব্যবস্থা

গ্রিন হাউস গ্যাস বন্ধে ব্যবস্থা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আয়োজিত ‘সকলের জন্য জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে গ্রিন হাউস গ্যাস উদগিরণ বন্ধে ব্যবস্থা চেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোকে ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ২০১৯-এর মধ্যে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড অবশ্যই পুনর্ভরনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ দাবি জানান। শান্তি রক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণের চলমান পদক্ষেপের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ এই মন্ত্রী পর্যায়ের সভার আহবান করে। বায়ু মন্ডলে যে সকল গ্যাস তাপীয় অবলোহিত সীমার মধ্যে বিকিরিত শক্তি শোষণ ও নির্গত করে সেসব গ্যাসকে গ্রিন হাউস বলে জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষের দিকে। এটি কোনো নতুন খবর নয়। আগামী দশকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তাপমাত্রার ফলে সমুদ্রস্তর বৃদ্ধি পাবে।

এতে তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করবে। আরো তীব্র মাত্রার সাইক্লোন হবে। সাইক্লোন-সিডরে সাড়ে ৩৪ লাখ বাড়িঘর তলিয়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালে ওই ধরনের সাইক্লোনে তিন মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস হবে। এতে ৯৭ লাখ লোকের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। বাংলাদেশে মাত্র ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যেই অনেক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। অনেক এলাকা হয়ে পড়বে পানি শূন্য। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ বা পর্যাপ্ত খাবার পানি পর্যন্ত মিলবে না। এখনই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চলতি শতকের শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প সময়কালের চেয়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। আসন্ন এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে যেহেতু কার্বন ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশে নেতিবাচক ভূমিকা এ দেশগুলোর। পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।