গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছেন

গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছেন

নিজেরআলোয় ডেস্ক ঃ কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা। একদিন নিজেরাই ছিলেন অসহায়, অন্যের বোঝা। আর আজ তারাই স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আত্মপ্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তা হিসেবে। অন্যের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন। পরিবার ও সমাজে সম্মানিত নারী হিসেবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইকোনমিক ইমপাওয়ারমেন্ট ফর পুওর অ্যান্ড ভলনারেবল উইমেন ইন বাংলাদেশ (ইইপি) প্রকল্পের মাধ্যমে এ সফলতা এসেছে তাদের। ব্র্যাক এ প্রকল্পটি পরিচালনা করছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সমন্বয়ক খালেদা খানম জানান, নারায়ণগঞ্জের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের ফেব্র“য়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, নারী-পুরুষের জেন্ডার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জীবিকা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসার প্রয়োজনে নারীদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা এসেছে।

রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কেয়ারিয়া গ্রামের শিলা রানী জানান, এক সময় অভাব-অনটনে এক বেলা খেলেও অন্য বেলা খেতে পারতেন না। তাছাড়া সন্তান না হওয়ায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের অত্যাচারে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে স্বামী কালিপদ অসুস্থ (প্যারালাইসড) হয়ে পড়েন। চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। অন্যের গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে বিক্রি করে কোনো রকমে দিন চালাতেন। এ অবস্থায় তার জীবনে আশার আলো হিসেবে দেখা দেয় ব্র্যাকের ইইপি প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় ৭ দিনের নেট ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্র্যাকের কর্মীদের পরামর্শে একটি সেলাই মেশিন কিনে ব্যাগ তৈরি শুরু করেন। এখন তার দায়িত্বে রয়েছেন আরও চারজন নারী কর্মী, যারা প্রডাকশনের কাজ করেন। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে মেশিন। বর্তমানে শিলা প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন। সম্প্রতি জয়িতা হিসেবে ক্রেস্ট পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় বাজার কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য এই শিলা। সদস্যপদ লাভ করেছেন স্থানীয় উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির। শুধু শিলা রানীই নন এ রকম সফল উদ্যোক্তার উদাহরণ রয়েছে অনেক। এদের আরেকজন একই উপজেলার বাগবের গ্রামের জহুরা। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে বাবার বাড়িতেই ছিলেন। প্রকল্প থেকে বিউটি পার্লার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পারিবারিক ও সামাজিক বাধা জয় করে বর্তমানে স্থানীয় বাজারে দোকান ভাড়া নিয়ে বিউটি পার্লার দিয়েছেন। তার পার্লারে কাজ করছেন আরও ৪-৫ জন কর্মী। বিনিয়োগ রয়েছে ৫-৭ লাখ টাকা। প্রতি মাসে আয় হচ্ছে খরচ বাদে ৩০-৪০ হাজার টাকা। তিনিও জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। কয়েতপাড়া ইউনিয়নের বরালু গ্রামের কাকলী এখন নারীদের কছে উদাহরণ। হাতের কাজ শিখে প্রথমে নিজে ব্যবসা শুরু করলেও এখন ৬০-৭০ জন নারী কাজ করেন তার তত্ত্বাবধানে।