গ্রামাঞ্চল থেকে বিলুপ্তির পথে জনপ্রিয় গণমাধ্যম রেডিও

গ্রামাঞ্চল থেকে বিলুপ্তির পথে জনপ্রিয় গণমাধ্যম রেডিও

বকুল হোসেন, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : গণমাধ্যমের অন্যতম প্রভাবশালী মাধ্যম ছিল রেডিও। কালের পরিক্রমায় নতুন নতুন প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস এর প্রভাবে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। নব প্রজন্মের কাছে রেডিও আজ অচেনা অজানা যন্ত্রে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি, আবহাওয়াসহ চলমান বিভিন্ন তথ্য জানার একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। আজ যেমন প্রায় প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল সেট, একসময় তেমনি প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল রেডিও। এক কথায় বলতে গেলে তথ্য জানা ও ঘরে বসে চিত্ত বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। রেডিও বিলুপ্তির যুগেরও নন্দীগ্রাম উপজেলা বাঁশো গ্রামের ডিগীপাড়ার আবুল হোসেন নামের লোকের কাছে একটি পুরানো রেডিও সেট দেখা গেছে। তিনি জানান, ২০ বছর ধরে রেডিও সেটটি আগলে রেখেছেন।

ইতালির বিজ্ঞানী গুইলিইমো মার্কনী ১৮৯৮ সালে রেডিও আবিষ্কার করেন। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর বিনা তারে বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণের সূত্র ধরেই বিজ্ঞানী মার্কোনী রেডিও আবিষ্কার করেন বলে অনেকের ধারণা। তবে ১৮৯৮ সালে রেডিও আবিস্কার হলেও বাংলাদেশে রেডিও’র সম্প্রসার শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে। পরে রেডিও পাকিস্তান ঢাকার কয়েকজন সাহসী কর্মকর্তা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ রেডিওতে প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বেতারের ভূমিকা ছিল অন্যান্য।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ বেতার ঢাকার পরিবর্তে রেডিও বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়। ১৯৮৩ সালের ৩০ জুলাই শেরে বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের কার্যালয় স্থানান্তরিত করে শাহবাগে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে এ ভবনটি বাংলাদেশ বেতারের সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তথ্য আদান প্রদানের অন্যতম প্রভাবশালী মাধ্যম ছিল এই রেডিও। ওই সময় রেডিওতে সংবাদ শোনার জন্য লোকজন উদগ্রিব ছিল। টেলিভিশন, ডিস সংযোগ, উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল ও ইন্টারনেট এর প্রভাবে বিলুপ্তির পথে রেডিও। বর্তমান প্রজন্মের কাছে রেডিও একটি অচেনা অজানা যন্ত্রে পরিণত। গ্রামাঞ্চলে রেডিও’র দেখা পাওয়া কঠিন। কারণ তৃণমূল পর্যায়ে ডিস সংযোগের ফলে রেডিও’র জায়গা দখল করে নিয়েছে রঙ্গিন টিভি। বিলুপ্তির পথে রেডিওকে পুনরায় জনপ্রিয় গণমাধ্যমে পরিনত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।