গোবিন্দগঞ্জে সার্কাসের হাতির হুলস্থূল কান্ড

গোবিন্দগঞ্জে সার্কাসের হাতির হুলস্থূল কান্ড

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : কথায় বলে হাতি যেমন খায়, তেমনি মলত্যাগও করে। হাতির অধিক আহারের বিষয়ে আরও অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে আমাদের গ্রাম বাংলায়। এবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আহারের কারণে জীবন হারাতে বসেছিল সার্কাসের একটি হাতি। অবশেষে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে অসুস্থ হয়ে মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তান্ডব চালানো পাগল হাতিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য করে মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সার্কাসের একটি     

পোষা হাতি দিয়ে মাহুত গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে উপজেলার কোচাশহর বাজার থেকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করছিল। এ সময় এক পথচারীর হাতে থাকা ফসলে কীটনাশক (ফুরাডন) হাত থেকে নিয়ে হাতিটি খেয়ে ফেলে। কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়ায় হাতিটি উন্মাদ হয়ে মাহুতকে ফেলে দিয়ে দোকান পাটে তান্ডব চালিয়ে ছোঁটাছুটি করতে থাকে। এ সময় এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিষক্রিয়ায় হাতিটি একটি পুকুরে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। এ খবর পেয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক সেবাস্টিন রেমা দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মনকে এ পাগল হাতি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া ও হাতিটির চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য করে মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও উপজেলা ভ্যাটেনারি সার্জন বেলাল হোসেনের তত্বাবধানে রংপুর রেঞ্জের (রিজার্ভ ফোর্স) পুলিশ সদস্য প্রকাশ কুমার ও স্থানীয় যুবক মাহি পুকুরে নেমে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতিটিকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পুকুরের এক ধারে এনে বিষক্রিয়া নাশক ভ্যাকসিন করলে তার আধাঘন্টা পর হাতিটি সুস্থ্য ও স্বাভাবিক হয়। পরে হাতির মালিককে হাতিটি বুঝিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে হাতিটি দেখার জন্য হাজার-হাজার উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভীড় করে। উপজেলা ভ্যাটেনারি সার্জেন ডা. বেলাল হোসেন জানান, ফুরাডন খাওয়া হাতিটিকে বিষ নাশক ভ্যাকসিন দেয়ার পর হাতিটি এখন সুস্থ্য রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় বিষক্রিয়ায় হাতিটি পাগল হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তান্ডব চালালেও লোকজন ভয়ে সরে যাওয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।