গুরুদাসপুরে বিনাহালে রসুন চাষ, ফলন ভালো হলেও দাম নেই

গুরুদাসপুরে বিনাহালে রসুন চাষ, ফলন ভালো হলেও দাম নেই

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুরে বিনাহালে রসুন চাষ হয়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছে রসুন চাষিরা। তবে প্রতিবছরের মত এ বছরে তেমনটা লাভবান হবে না বলে জানিয়েছেন রসুন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ভাল হলেও বাজারে দাম কম রসুনের। উপজেলার বিয়াঘাট, নাজিরপুর, ধারাবারিষা, মশিন্দা ও চাপিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে সবাই রসুন উঠাতে ব্যস্ত। প্রত্যেকটি জমিতে ১০-১৫ জন করে শ্রমিক রসুন উঠাচ্ছে। সেখানে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি মহিলা শ্রমিকও কাজ করছেন। কেননা পুরুষ শ্রমিকের চাইতে মহিলা শ্রমিকের দিনমজুরী কম এবং মহিলা শ্রমিকদের দিয়ে কাজও ভাল হয়। উপজেলার বিয়াঘাট মাঠের চাষি মো. আলম হোসেন বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে বিনাহালে রসুন চাষ করেছি। আমার দুই ভাই ৫ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় রসুনের ফলন অনেক ভাল হয়েছে।
এক বিঘা জমিতে রসুন পাবো প্রায় ৩০-৩৫ মণ। কিন্তু ফলন ভাল হলেও বাজারে দাম নেই রসুনের। বড় বড় সাইজ রসুন বাজারে বিক্রি করতে গেলে দাম পাই এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা ও মাঝারী সাইজ বিক্রি হয় ৭শ থেকে ৮শ টাকা। এক বিঘা জমিতে রসূনের চারা রোপণের পর থেকে বাড়ি থেকে তোলা পর্যন্ত সর্বমোট খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। একজন করে পুরুষ শ্রমিকের মজুরী ৩৫০ টাকা ও মহিলা শ্রমিকের মজুরী ২৫০ টাকা করে দিতে হয়। এক বিঘা জমিতে রসুন ওঠাতে শ্রমিক প্রয়োজন হয় ২০ জন। চারা রোপন থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত যে খরচ হচ্ছে এখন বাজারে মূল্য অনুযায়ী রসুনের ফলন ভাল হলেও কৃষক তেমনটা লাভবান হতে পারবে না। তবে যদি বাজারে সর্বনি¤œ ২০০০ হাজার টাকা করে মণ বিক্রি করতে পারতাম তাহলে লাভ হতো।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলায় এ বছর ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিনাহালে রসুন চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রসুনের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম অনেক কম। তবে দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। চাষিরা বাজারে যদি একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারে তাহলে তারা ভাল লাভবান হতে পারবে।