গুরুদাসপুরে গভীর নলকূপের স্কিমভুক্ত জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ

গুরুদাসপুরে গভীর নলকূপের স্কিমভুক্ত জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : দুই ফসলি জমি। বিঘা প্রতি ধান হয় ২৫-৩০ মণ। উর্বর জমি হওয়ায় সেখানে ফসল উৎপাদন দ্বিগুন হয়। অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে মাছ চাষ করার পরিকল্পনায় গভীর নলকূপের স্কীমভূক্ত জমিতে পুকুর খননের জন্য দুই ফসলি কৃষি জমিতে খনন যন্ত্র (ভেকু মেশিন) নামানোর অভিযোগ উঠেছে বিয়াঘাট এলাকার মো. আসকান হাজী ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। জানা যায়, নলকূপটি বিয়াঘাট ইউনিয়নের জ্ঞানদানগর মৌজায় স্থাপিত। নলকূপটি বিএডিসি পানাসি প্রকল্প কর্তৃক ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্থাপন করা হয়। উক্ত স্কীমের আওতায় প্রায় ২০০ বিঘা জমি রয়েছে। সকল জমিতে যথারীতি বিঘা প্রতি প্রায় ২৫-৩০ মণ ধান উৎপাদন হয়। তবে চলতি বছরে উক্ত স্কীমের আওতায় গভীর নলকূপ থেকে ২০০-৩০০ ফুট দূরে দুইটি পুকুর খনন করা হয়েছে। সেই পুকুর বন্ধ করার ব্যাপারে চেষ্টা করেও কোন সুফল পাননি কৃষকরা। এখন বর্তমানে ওই স্কীমের আওতায় বিয়াঘাট এলাকার মো. আসকান হাজী ও তার ছেলেরা আরও একটি পুকুর খনন করার জন্য খনন যন্ত্র ভেকু মেশিন জমিতে নামিয়েছে। এই পুকুর খনন করা হলে কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে ইরি ধান চাষ হচ্ছে তার মাঝখানে বিগত দিনে খনন করা কয়েকটি পুকুরও আছে। তবে নতুন করে আবার যদি এসকল জমিতে পুকুর খনন করা হয় তাহলে আশপাশের জমিগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তার পরেও যে জমিতে পুকুর খনন করা হবে সেটি গভীর নলকূপ স্কীমভুক্ত জমীর  আওতাভুক্ত। খনন যন্ত্রের মালিক ভেকু ব্যবসায়ী বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং বিয়াঘাট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শিতল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, সবাই কাটছে তাই আমিও কাটছি। কারো কাছ থেকে কোন অনুমোতি নেইনি।জমির মালিক মো. আসকান হাজীকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে এখন জানলাম। যে সকল ব্যক্তি পুকুর খননের সাথে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কৃষি জমিতে কোনভাবেই পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।