গুরুদাসপুরে ইটভাটার কারণে সবজি উৎপাদন কমছে !

গুরুদাসপুরে ইটভাটার কারণে  সবজি উৎপাদন কমছে !

নাটোর প্রতিনিধি ঃ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশী শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হলেও রাস্তাঘাট আর পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইটভাটাগুলো। এক ফসলী থেকে শুরু করে তিন ফসলী কৃষি জমিতেও ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে দিনদিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে ফসলের উৎপাদন।গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ১৩টি। এর মধ্যে গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় ইটভাটা রয়েছে ৭টি। ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত বাকী ৬টি ইটভাটাও পৌরসভার আবাসিক এলাকার সন্নিকটে। অপরদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি ইটভাটা গড়ে ৩০ বিঘা করে মোট ৩ শতাধিক বিঘা  কৃষি জমি দখল করেছে। এসব জমিতে রোপা, আমন, আউশ ও রবি ফসলের আবাদ হতো।

বর্তমানে ইটভাটার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শীতকালীন সবজিগুলো। বিশেষ করে গুরুদাসপুর পৌর এলাকার তাড়াশিয়া পাড়া ও উপজেলার চিতলাপাড়া গ্রামের ফুলকপি, বাধাকপি ও সরিষার আবাদ হুমকিতে পড়েছে। ইটভাটার ফ্লাইএ্যাশ(উড়ন্ত ধোঁয়া ছাই)পাশ্ববর্তী জমিতে ছড়িয়ে পড়ে পরিণত ফুলকপির ও সরিষার ফুল এবং বাধাকপির পাতা প্রতিনিয়ত কালচে বর্ণ ধারণ করছে। বিবর্ণ এসব সবজি বাজারে বিক্রি করে দাম পাচ্ছে না কৃষক। এভাবেই ইটভাটা মালিকরা পরোক্ষভাবে আবাদী জমি চাষের অনুপযোগী করে কৃষকদের বিক্রি করতে বাধ্য করছেন। সলিম উদ্দীন নামের এক কৃষক জানান, আগের মতো সবজি উৎপাদন হয় না ইটভাটার কারনে। পাশাপাশি কীটনাশক সমস্যা আছে।

আক্কাস আলী নামের আরেক কৃষক জানান, স্থানীয় কৃষকরা ভালো দামের আশায় মৌসুমের শুরুতে আগাম সবজি চাষ করে। কিন্ত ইটভাটার ছাইয়ের কারণে বছরের প্রথম সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে দাম পাওয়া যায় না।রসুন চাষী সাত্তার আলী জানান, ইটভাটার কারণে কোন সবজিই তারা ভালোমতো উৎপাদন করতে পারেন না। উৎপাদন খরচ না ওঠায় তারা দিনদিন নিরুৎসাহিত হচ্ছেন সবজির উৎপাদনে।  পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী কোন পৌর(আবাসিক) এলাকার মধ্যে ইটভাটা থাকা যাবে না। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই শত শত একর কৃষি জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। গত দুই দশকে এভাবেই আবাসিক এলাকায় ঢুকে গেছে ইটভাটা।

ইটভাটায় মাটি পরিবহণের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রিলারের অবাধ যাতায়াতের কারণে পাকা সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার চাঁচকৈড় থেকে নয়াবাজার ও চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া থেকে বসপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের হাজীরহাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক মাটি ফেলতে ফেলতে ইটভাটার গাড়িগুলোর যাতায়াতের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, কৃষি জমিতে অকৃষি কাজ করার জন্য দিন দিন গুরুদাসপুরে ফসলের আবাদ কমে যাচ্ছে। গত বছর ২০ হেক্টর জমিতে কপির চাষ হলেও এবার আবাদ হয়েছে ১৮ হেক্টর জমিতে। এছাড়া রসুন ও সরিষার আবাদও কমছে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত না করে চলাসহ পরিবেশ ও ফসল রক্ষাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইটভাটা মালিকদের। নিয়ম না মানায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ইটভাটাকে জরিমানাও করা হয়েছে।