গার্মেন্টসে মজুরি বাড়ছে

গার্মেন্টসে মজুরি বাড়ছে

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক কর্মচারিদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। ফলে চলতি বছরই দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের এই খাতটির শ্রমিক ও কর্মচারিরা নতুন কাঠামোতে মজুরি পাবেন। পোশাক কর্মিদের জন্য এটি একটি সুসংবাদ। তারাও আশায় বুক বেধে আছেন। পোশাক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরেই ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে। গত দুই দশকে এখানে পোশাক শিল্প সবচেয়ে লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। দু’তিন দশক আগে যেসব মালিক মাত্র একটি ছোট কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন তারা অনেকেই এখন একাধিক বড় পোশাক কারখানার মালিক। দেশে গার্মেন্টস শিল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। আমাদের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পোশাক শিল্প থেকে। এই শিল্পে বিনিয়োগকারীদের অবস্থা যথেষ্ট ভালো হলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে কারখানায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বজায় রেখেছে।

তাদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম যাতে অনেকের পক্ষেই নিজের একার থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানো সম্ভব নয়, পরিবার চালাবেন কিভাবে, বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৩ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া ১ হাজার ২০০টাকা এবং চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতা ১ হাজার ১০০টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই মজুরি কাঠামোটি কার্যকর হয়। এই স্বল্প টাকা দিয়ে পরিবার পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বস্তুত আমাদের লাভজনক গার্মেন্টস শিল্পের এ এক নেতিবাচক দিক। গত চার বছরে নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের আয়ও বেড়েছে। বাড়েনি কেবল গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি। শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা ও শ্রমের পরিবেশের উন্নয়নে সবাইকে আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে।