গার্মেন্টসে অসন্তোষ কাম্য নয়

গার্মেন্টসে অসন্তোষ কাম্য নয়

সরকার ঘোষিত ন্যুনতম মজুরি বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে কয়েকদিন যাবত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, সাভার ও গাজীপুরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে রাজধানীর শ্রম ভবনে গত মঙ্গলবার মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রি-পক্ষীয় সভায় ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি এক মাসের মধ্যে মজুরি কাঠামো নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করবে। ঢাকা মহানগর, গাজীপুর, সাভারের কারখানা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। কিছু কারখানা শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

বুধবারেও শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ঢাকার সাভারে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ১৫টি কারখানায় ছুুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকার নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য কমিটি করে দিলেও শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নতুন বেতন কাঠামোর কারণে কোনো শ্রমিকের যদি বেতন কমে যায় তাহলে তা আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে। সরকারের এ আশ্বাস আমলে নেওয়া উচিত বিক্ষোভরত শ্রমিকদের। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এখন পোশাক শিল্প।

দেশের অর্থনীতিতে এই শিল্প বহুমাত্রিক অবদান রেখে চলেছে। রফতানি আয়ের ৭৯ শতাংশ আসছে এ খাত থেকে। চল্লিশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে। বিশেষ করে নারীর মর্যাদা বেড়েছে। এমন শিল্পে কোনো সংঘর্ষ-বিশৃঙ্খলা কারো কাম্য হতে পারে না। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানের দাবিকে অবশ্যই কর্র্র্তৃপক্ষের বিবেচনায় আনতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। শিল্পের স্বার্থে সব পক্ষকে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।