গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, ২ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, ২ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের চিকিৎসকরা।

শুক্রবার সীমান্ত বরাবর ফিলিস্তিনিদের সাপ্তাহিক বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালালে এ ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্নে’ এ নিয়ে ১৭০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকায় ফিরতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সীমান্ত বরাবর ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এ বিক্ষোভের ডাক দেয় হামাসসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শুরুর দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ৩০ মার্চকে; ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভূমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হন।

ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ৭০তম বার্ষিকীতে ১৫ মে এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি।

গাজার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সম্প্রতি মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে মিশর; এর মধ্যেই শুক্রবার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে গুলি চালাল তেল আবিব।

সীমান্ত বেষ্টনির কয়েকশ মিটার দূরে ২০ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ জ্বলন্ত টায়ার নিয়ে বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও ইসরায়েলি নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

গুলিতে অন্তত ২ ব্যক্তি নিহত ও ২৭০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান ফিলিস্তিনি চিকিৎসকরা। আহতদের মধ্যে ৫০ জনের শরীরে তাজা গুলির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

বিক্ষোভকারীরা ‘দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করলে’ গুলি চালানো হয় বলে দাবি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের।

জেরুজালেমের পুরনো শহরে আল আকসা মসজিদের কাছে একটি কমপ্লেক্সে শুক্রবার নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করা এক আরবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের আল আকসা মসজিদে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বলেও ফিলিস্তিনিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

“এই ধরনের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অনিশ্চিয়তার দিকেও ঠেলে দিতে পারে,” জেরুজালেমের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ওয়াফাকে এমনটাই বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।