গাছ লাগান বেশি করে

গাছ লাগান বেশি করে

গণমাধ্যমেই আমরা প্রায়ই এমন খবর দেখি যে, শুধু সংরক্ষিত বনাঞ্চলেই নয়, বরং সারা দেশেই চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন ছয়টি দেশের একটি; তাই এখানে যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আগে তার পরিবেশগত প্রভাব বিচার করা জরুরি। বৃক্ষ ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক। একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি হিসাব মতে আমাদের বনভূমি আছে মাত্র সাত শতাংশ। বায়ু মন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষায় যে পরিমাণ গাছপালা থাকা প্রয়োজন তা না থাকার কারণে বায়ু মন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড’র পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক বনানীকরণ কর্মসূচি ক’বছর আগে শুরু করেছিল সরকার। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে পতিত জমির সদ্ব্যবহার হয়। এর ফলে চাষিরা শস্য ছাড়াও পশু খাদ্য, জ্বালানি হিসেবে খড়ি, ফলমূল ও কাঠ পাবে। গাছ কাটার মহোৎসব চলে সুন্দরবন থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্রই। সুন্দরবনে দশ-বিশ বছর আগেও যে পরিমাণ বৃক্ষ ছিল, তার অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এসেছে বনদস্যুদের হাতে পড়ে। সিডর-আইলায়ও এ বনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। জলবায়ুর ওপর বৃক্ষ নিধনের প্রভাব ভয়াবহ। ১৯৫০ সালের দিকে বায়ু মন্ডলে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি মেট্রিক টন। ফলে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। আমাদের বনভূমির পরিমাণ কমছে দিন দিন। সত্যি বটে, গত ক’বছরে বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বেড়েছে। তবে তার তুলনায় গাছ কাটা হচ্ছে অনেক বেশি। উল্লেখ্য, সরকার দেশের বনজ সম্পদ যথাযথ সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতীয় বননীতি ঘোষণা করেছে। ওই ঘোষণায় বনভূমি বনায়ন ব্যতীত ভিন্ন কাজে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আমাদের বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে বন ও পরিবেশ বিভাগকেও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি বৃক্ষ নিধন প্রতিরোধে সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা।