গণপিটুনি চলতে পারে না

গণপিটুনি চলতে পারে না

দেশে গণপিটুনিতে আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে দেশে গণপিটুনিতে অন্তত নয়জন মারা গেছেন। রাজধানীসহ সারাদেশে ছেলে ধরা গুজবে আতংক তৈরি হয়েছে। এই আতংকে সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার কথা অনেক অভিভাবক বন্ধ করে দিয়েছে তাদের স্কুলে যাওয়া। অন্য দিকে ছেলে ধরা গুজবকে পুঁজি করে ইতিমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে অকে নিরপরাধ মানুষকে মেরে ফেলা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সন্তানের ভর্তির জন্য রাজধানীর বাড্ডায় একটি স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। কিন্তু ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির নির্মমতার শিকার হয়ে তাকে জীবন দিতে হলো। কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। আক্রান্তদের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় সবক্ষেত্রেই মানসিক রোগি, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধাসহ নিরীহ মানুষই গণপিটুনির শিকার হচ্ছেন।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, নানা কারণে মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। আবার অপরাধীদের বিচারও ঠিকঠাক হচ্ছে না। মূলত এ কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধীকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) সারা দেশে ৩৬ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাবে, এই সংখ্যা ৩৫। ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’- এমন গুজব ছড়ানোর পর ছেলেধরা আতংক বেড়েছে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনাও বাড়ছে। যদিও পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা ফৌজদারি অপরাধ। কাউকে ছেলে ধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করারও আহবান জানিয়েছেন পুলিশ। সাধারণ মানুষের ভরসা ফেরাতে নিরাপত্তামূলক তৎপরতা জোরদার করা দরকার। আর পুলিশকেও এমন গণপিটুিনর উন্মত্ততা থামাতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।