খোশ আমদেদ মাহে রমজান

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

স্বাগত মাহে রমজান। বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান-রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে মুসলমানরা। ভোগ বিলাস, অপচয় এবং অসংযমের অসঙ্গত পথ থেকে মানুষকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয় এ মাস। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য রচনাকারী পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল এ মহিমান্বিত মাসে। আমরা জানি, পুরো মাস রোজার মাধ্যমে শুধু পানাহার ও জৈবিক চাহিদা বর্জনই নয়, আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য অন্তরের লোভ-লালসা ও নেতিবাচক চিন্তাতেও লাগাম টেনে ধরা হয়। এ পবিত্র মাসে বিশ্বাসী মানুষ যা কিছু অকল্যাণকর তা পরিত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস পায়। মাহে রমজানের শিক্ষা আত্মসংযমের মহিমামন্ডিত। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ঐশী নির্দেশ লংঘন করে এ মাসকে কেউ কেউ অসংযম ও লোভ লালসার পূরণের সুযোগ হিসেবে বেছে নেয়। সিয়াম সাধনায় নিয়োজিত বিশ্বাসী মানুষের জন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে তাদের অসংযত মনোভাব। রোজার মাসে নিত্য পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রোজাদারদের কষ্টের মুখে ঠেলে দেওয়া সামাজিক দৃষ্টিতে যেমন গর্হিত, তেমন ধর্মীয় দিক থেকেও গুনাহ বলে বিবেচিত। মাহে রমজানের যারা নিত্য পণ্যের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় তাদের কর্মকান্ড কোনোক্রমেই ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ গর্হিত কর্মকান্ড দমন সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। সরকারের দায়িত্ব হবে মাহে রমজানে মানুষের কষ্ট যাতে না বাড়ে, পণ্যমূল্য স্বাভাবিক থাকে, হয় সহজ লভ্য সেদিকে কঠোর দৃষ্টি দেওয়া। পানি সরবরাহ, গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহেও কোনো রকম বিঘœ কাম্য নয়। রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে রমজানের সিয়াম সাধনায় শরিক হওয়ার, তৌফিক দিন, কবুল করে নিন আমাদের সাধনার সকল প্রচেষ্টাকে।