খুন খারাবি থেমে নেই

খুন খারাবি থেমে নেই

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে হয়। গত সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো অন্তত সে কথাই বলছে। নোয়াখালীতে ঘরে ঢুকে দুই বোনকে ধর্ষণ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্ম দিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সাদুল্যাপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার। পলাশবাড়িতে যুবকের লাশ উদ্ধার। হাতিয়ায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যা। নিখোঁজ যুবকের লাশ মিলল কর্ণফুলীতে। নওগাঁয় গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে টাকা লুট। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এসব ঘটনা থেকে দেশের সচেতন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। কেন খুন খারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না? বন্ধ হচ্ছে না নৃশংস অমানবিকতা? এতে জনমনে নিরাপত্তাহীন বোধ যে আরো তীব্র হবে, এটাই স্বাভাবিক।

ধারণা করা যেতে পারে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ-কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। সামান্য কারণেই যখন খুনের ঘটনা ঘটছে তখন বলতে হবে, মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। আবার এলাকা বিশেষে সত্যিকার অর্থেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময় যে ভেঙে পড়বে, চলে যাবে আয়ত্তের বাইরে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ কথা ঠিক যে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেখা দিয়েছে আচরণগত সমস্যা। কিন্তু প্রতিদিনের খুনের ঘটনাগুলো কি মেনে নেওয়া যায়? এ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে না পারলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি অসম্ভব। আমরা আশা করব, কর্তৃপক্ষ সব দিক বিবেচনায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। সমাজকে বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে।