পুলিশি বাধার অভিযোগ

খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিএনপির লিফলেট বিতরণ
খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিএনপির লিফলেট বিতরণ
খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে দলের বক্তব্য সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেছে বিএনপি। তবে কর্মসূচি পালনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং গ্রেফতারের অভিযোগ করেছে দলটি।  বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় কয়েকজন পথচারী ও রিকশা চালকের হাতে লিফলেট তুলে দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, শেখ মোহাম্মদ শামীম, আব্দুল মতিন, ফরহাদ হোসেন আজাদ, ছাত্রদলের আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে কয়েকজন পথচারী ও রিকশা চালকের হাতে লিফলেট তুলে দেন। তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, এই কর্মসূচির কারণে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। সাদা পোশাকের পুলিশকেও সেখানে দেখা যায়। অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি দেখে কিছু লিফলেট দিয়েই নেতারা রাস্তা থেকে অফিসের গেইটে চলে আসেন।

বিএনপির দুই পৃষ্ঠার লিফলেটের শিরোনাম হলো- শেখ হাসিনার ১৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার/খারিজ বনাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিত্তিহীন মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ড। ওপরে ডানপাশে খালেদা জিয়া ও বামপাশে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। সেখানে বলা হয়েছে, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের ‘কাল্পনিক, সাজানো ও উদ্দেশ্যমূলক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া ১৫টি মামলার মধ্যে ছয়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার এবং অন্য নয়টি মামলা হাই কোর্টের মাধ্যমে খারিজ করিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই নয় দুর্নীতি মামলায় মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। লিফলেটের একেবারে শেষ পর্যায়ে বলা হয়েছে, এক টাকাও দুর্নীতি না করে বেগম খালেদা জিয়াকে যদি জেলে যেতে হয়, তবে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের কী শাস্তি হওয়া উচিত- তা ভবিষ্যতে জনগণের আদালতেই নির্ধারিত হবে ইনশাল্লাহ।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের ছবি ও নয় দফা আহŸান সম্বলিত একটি বার্তাও প্রকাশ করেছে বিএনপি। সেখানে খালেদা জিয়ার নামে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। আমাকে আপনাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলেও বিশ্বাস করবেন- আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।

লিফলেট বিতরণের পর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজকে (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে বিএনপির বক্তব্য সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বিএনপি কেন দেশনেত্রীর মুক্তির দাবি করছে, কী অন্যায় তার প্রতি করা হয়েছে- সেসব বক্তব্য আমরা লিফলেটের মাধ্যমে জনগণকে জানাচ্ছি। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকাসহ সারাদেশে জেলার নেতা-কর্মীদের নিয়ে এই লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। বিএনপির এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান রিজভী। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপির এই নেতা বলেন, শঙ্কার মধ্যেই তাদের এই লিফলেট বিতরণ করতে হচ্ছে।

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের নেতৃত্বে মতিঝিল, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে মিরপুর-পল্লবী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে উত্তরা, মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে বাড্ডা ও শাহজাদপুর, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে শাহবাগ মোড়, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে হাতিরপুল সোনারগাঁও রোড, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে মতিঝিল কলোনী কাঁচাবাজার, জাসাসের উদ্যোগে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানের নেতৃত্বে গুলশান ডিসিসি মার্কেট এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২০ দলীয় জোট শরিক এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, লেবার পার্টির হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণকালে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। মৌলভীবাজারে লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশি হামলায় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া মানিকগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল মোমিন পিন্ট এবং পৌর বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ও ফকিরা, বান্দরবানে যুবদল নেতা মো. হেলালসহ বেশকিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফলেট বিতরণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেয়ালে পোস্টার লাগাতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ মারমুখী হয়ে পোস্টার লাগাতে বাধা দেয় এবং পোস্টার কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে।