খালেদা জিয়ার নিন্দা বিএনপি নেতা তৈমুর আলম গ্রেফতার

খালেদা জিয়ার নিন্দা বিএনপি নেতা তৈমুর আলম গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের আদালতপাড়া থেকে নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরফুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,     তার বিরুদ্ধে সদর থানার নাশকতার দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় একাধিক নাশকতার মামলাও রয়েছে।

এদিকে তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, তৈয়মুর আলম খন্দকার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে আদালতপাড়ায় প্রচারণার কাজে ছিলেন। এ সময় পুলিশ আইনজীবীদের সামনে থেকে টেনে-হেঁচড়ে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এভাবে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে একজন সাধারণ মানুষকেও গ্রেফতার করা আইন বহির্ভূত। তৈমুর আলমকে পুলিশ শত শত আইনজীবীর মধ্য থেকে যেভাবে টেনে-হেঁচড়ে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়, এটা আইন বহির্ভূত। আমরা দ্রুত তৈমুর আলম খন্দকারের মুক্তি দাবি করছি।

এদিকে, তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার সারাদেশকে গ্রাস করতে সর্বনাশা নীতি অবলম্বন করেছে। এই নীতির তাৎপর্য হচ্ছে হুকুমবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অস্তিত্বের চিরদিনের জন্য অবসান ঘটানো। দিন যতোই অতিবাহিত হচ্ছে ভোটারবিহীন সরকারের জিঘাংসার মাত্রা ততোই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। তিনি আরো বলেন, বিরোধী দল দমনে এই সরকার হয়রানি, জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ইত্যাদিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

 মানুষের প্রতিবাদী স্রোত যেন ক্ষমতার মসনদের দিকে ধেয়ে না আসে, সেজন্য ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা সরকারের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে তৈমুর আলম খন্দকারের ন্যায় একজন প্রাজ্ঞ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদকে আজ বিনা কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, শাসকগোষ্ঠী দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক কর্মী-নেতারা ছাড়াও দেশের কোনো মানুষই এখন নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন না। সারাদেশে প্রতিদিন গণগ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিবৃতিতে বেগম জিয়া গত ১৯ জানুয়ারি গ্রেফতার হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীরও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তৈমুর আলম খন্দকারের মুক্তি দাবি করেন।