খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কি না, তা আদালত জানে: কাদের

খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কি না, তা আদালত জানে: কাদের

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর জেলে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কি না, সেটি বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জোয়ারসাহারা এলাকায় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, হাইকোর্টের আপিল করলে জামিন দিলে তো তিনি বাহিরে থাকবেন। এখন সেটা তো আদলতের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে, সবকিছু মিলিয়ে তাঁর কারাবাস আরও প্রলম্বিত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। আমি এ কথা বলতে পারি, সরকার এ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করবে না, আগেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। কাদের বলেন, মওদুদ আহমেদের মন্তব্য নিয়ে দেশের মানুষের সবসময়ই সংশয় থাকে। কারণ তিনি নিজেই ভুয়া কাগজ দিয়ে অবৈধভাবে বাড়ি দখল করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, মওদুদ আহমেদের মত বিজ্ঞ আইনজীবী থাকতে কেন আদলতের কাগজপত্র পেতে দেরি হচ্ছে? এর জবাব তো আদালতই দেবে, সরকার এ জবাব দেবে কেন? আদালতের কাছে এ জবাবটা খুঁজুক মওদুদ আহমদ। খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি দুর্বার আন্দোলনের হুমকি দিলেও তারা সেটা পারবে না বলে মনে করেন কাদের বলেন, মানুষ এখন নির্বাচনে মুডে চলে গেছেন।

এখন আর আন্দোলনের মুডে জনগণ নেই। তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনের হাঁকডাক যেভাবে দেয়, সেখানে জনগণ সাড়া না দিলেতো কোন আন্দোলন হবে না। তাদের নেতারাই তো মাঠে আসে না। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে তাদের কয়জন নেতা মিছিল মিটিং এ অংশ নিয়েছে, তা খবর নিয়ে দেখুন। তিনি বলেন, নেতারা আন্দোলন ডেকে এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে বসে থাকেন, আরাম আয়েশে দিন কাটান, মাঝে মধ্যে পুলিশের গতিবিধির খবর নেন। তাহলে আন্দোলন কীভাবে সম্ভব?। আমরা আন্দোলন করেছি বিএনপির সময়ে,  আমাদের নেতারা রাজপথে ছিল। এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ নেই। কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা ভেবেছিলেন বেগম জিয়া কারাগারে গেলে লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তায় নেমে আসবে। ওই আগে সিপাহী জনতা জেগে উঠো... তারা  মনে করেছিল এখনও দেশে সেই অবস্থা আছে। তাঁরা প্রত্যাশা করেছিল, বেগম জিয়ার জন্য লাখ লাখ লোক রাস্তায় নামাবে।

কিন্তু শত শত লোকও রাস্তায় নামে নাই। তাঁরা আন্দোলন করবে কী করে?। কাদের বলেন, আমরা বিএনপির মতো একটা প্রতিদ্বন্দ্বী দল চাই। নির্বাচনতো অনেকই করবে। বিএনপি একটি বড় দল। আমরা চাই তাঁরা নির্বাচনে আসুক এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক। বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গেলে আমরা খুব খুশি হব বা এর প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য উৎসাহমূলক হবে, সেটা ঠিক নয়। এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমি চাই না বিএনপির মত একটা বড় দল ভেঙে যাবে এবং সেই চেষ্টাও আমরা করি না।বিএনপি ভাঙার জন্য বিএনপি নিজেরাই দায়ী এবং বিএনপির সংকট আমরা কেন ঘনীভূত করব? বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ঘনীভূত করার জন্য তারেক জিয়াই যথেষ্ট। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলাকারী বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।