খালেদা জিয়ার কারাদন্ড

খালেদা জিয়ার কারাদন্ড

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামীকে দশ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড  এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা অর্থদন্ড  দেয় আদালত। গত বৃহস্পতিবার এর বিচারক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায় নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মিরা দেশব্যাপী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে দূরে সরিয়ে রাখতে এবং সরকার তাদের এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করার জন্য এই সাজা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আছে।

দেশে কেউ যে আইনের উর্ধ্বে নয়, এ রায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হলো। এ ছাড়া আইনি পদক্ষেপ হিসেবে কাল রোববার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিএনপির এ আইনগত লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত স্বস্তিদায়ক। কারণ দেশে অশান্তি ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কেউ পছন্দ করে না। এতে নাগরিক জীবন ব্যাহত হয়। আমরা আশা করি, বিএনপির নেতা-কর্মিরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। কেননা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি উত্তেজনার সৃষ্টি করে এবং তা দেশকে সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। আইন বিষয়ে আইনিভাবেই বিএনপিকে মোকাবেলা করতে হবে। অন্য কোনো পথে নয়। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সব পক্ষই সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে চলবেন- এটিই প্রত্যাশা।