গ্রেফতার দেড় শতাধিক

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন বেগবান করবে বিএনপি : ফখরুল

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন বেগবান করবে বিএনপি : ফখরুল

বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে চলমান আন্দোলন আরো বেগবান করবে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের এই সংগ্রাম, এই লড়াই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে নিয়ে আসার লড়াই। এই লড়াই আমাদের নেতা-কর্মীদের মুক্ত করার লড়াই। এই লড়াই বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই। আসুন এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরা শপথ নিই- আগামী দিনে সমস্ত কর্মসূচি সফল করে জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে এই জেল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসবোই। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা আন্দোলনকে আরো বেগবান করি। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে তারা কারাগারে নিয়ে মনে করেছে বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, বাংলাদেশের মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে। সেটা হবে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে একটি জীর্ণ ও পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ একা ওই পরিত্যক্ত কারাগারে পাঠিয়ে এই সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। একদিন এর বিচার হবে। মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায় সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া আজ আরও শক্তিশালী হয়েছেন এবং জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতা হয়েছেন। খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া এ দেশের জনগণ আগামী নির্বাচন হতে দেবে না। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকার প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে। সরকার আইনে বিশ্বাস করে না বলেই জেলকোডে যে নিয়ম আছে, সবকিছুর বরখেলাপ করে তারা খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে পাঠিয়েছে।

আমরা এর নিন্দা জানাই। মানববন্ধনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বগল বাজাচ্ছেন। বিএনপিতে নাকি ভাঙন ধরবে? এ সমস্ত কথাবার্তা ভুলে যান। বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর ক্ষমতা বাংলাদেশে কোনো শক্তির নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তিনদিনের টানা কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। তবে এই অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে পুলিশের গড়িমসির পর দুই দফা স্থান পরিবর্তন করে দলটি। প্রথমে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা থাকলেও গত সোমবার রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে। পরে আবার সোমবার রাতেই নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টার এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা জানায় বিএনপি। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কের একপাশে দল ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী ও ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকে দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জলকামানের গাড়িসহ পোষাকধারী পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ ও সংস্থার বেশকিছু গাড়ি কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কর্মসূচি চলার সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঘিরে রাখেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, কাজী আবুল বাশার, কেন্দ্রীয় নেতা বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, শামসুজ্জামান সুরুজ, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরজাতুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের মামুনুর রশীদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

২০ দলীয় জোটের শরিক জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে এক ঘন্টার এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে এই কর্মসূচি পালনকালে সারাদেশ থেকে বিএনপির দেড়শ’র অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে চার হাজার পাঁচশ ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।