রাস্তায় না নামলে চুড়ি পরিয়ে দেওয়ার হুমকি

খালেদা জিয়াকে পরাজিত করা যাবে না : ফখরুল

খালেদা জিয়াকে পরাজিত করা যাবে না : ফখরুল

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ দাবি করে মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পরাজিত করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে  সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় এই হঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনোদিন পরাজিত হবেন না, তাকে কোনোমতেই পরাজিত করা যাবে না। ওয়ান-ইলেভেন সরকার দেশনেত্রীকে এক বছর আটকিয়ে রেখেছিলো, কিন্তু তাকে আটকে রাখতে পারেনি। আওয়ামী লীগ বার বার চেষ্টা করেছে বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, কিন্তু ধবংস করতে পারে নাই। মির্জা ফখরুল দাবি করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি টিকে থাকবে, টিকে আছে এবং সামনের দিকে আরো শক্তিশালী হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বিরূপ হয়ে মানুষ ব্যালটে তার জবাব দিতে মুখিয়ে আছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, মানুষ অপেক্ষা করে আছে যে নির্বাচনের দিনে ভোটে সিলটা মারবে, আর গণেশ উল্টিয়ে দেবে। এই গণেশ হচ্ছে ভারতের পশ্চিম বাংলার কথা। যখন সরকার পাল্টায় তখন বলে যে গণেশ উল্টে গেছে। ভোটের ওই ফল আঁচ করতে পেরে সরকার নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে বাইরে রাখতে সাজানো মামলায় রায়ের দিন ঠিক করেছে। সরকারের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণের সুনামি সৃষ্টি করতে বিএনপির নেতা-কর্মী বিশেষ করে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

রাস্তায় না নামলে চুড়ি পরিয়ে দেওয়ার হুমকি
সভাপতির বক্তব্যে দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল মহানগর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সামনের আন্দোলন সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে যদি কোনো রকম ষড়যন্ত্র করা হয়, সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার আন্দোলন। সেজন্য এবার সকলে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিন, দেখা হবে রাজপথে। কত শক্তি আছে তাদের, দেখবো আমরা। অনুষ্ঠানে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকল কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে নামার দাবি জানান মহানগর ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা সম্মান রেখে বলতে চাই- কেন্দ্রীয় নেতারা যারা সেই দিন রাস্তায় নামবেন না, পরের দিন তাদের বাসায় গিয়ে আমরা চুড়ি পরিয়ে দেবো। আমরা এবার দলের সিনিয়র নেতাদের রাস্তায় দেখতে চাই। দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন- মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদল দক্ষিণের গোলাম মাওলা শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের এসএম জিলানী, নজরুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।