খালেদা জিয়া জেলে রাজার হালেই আছেন: প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া জেলে রাজার হালেই আছেন: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রাজার হালেই আছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যে জেলে আছে, সেতো ভালো রাজার হালেই আছে। জেলখানা থেকে এখন হাসপাতালে।  তারজন্য আবার মেইড সার্ভেন্ট দেয়া হয়েছে। মানুষ এমনিতে কাজের বুয়া পায় না। আর খালেদা জিয়ার জন্য স্বেচ্ছায় একজন কারাবরণ করছে, তার সেবা করার জন্য। এতটুকু সুবিধা তাকে দেয়া হয়েছে। আমাদের ভিতরে কোন প্রতিহিংসাপরায়ণতা নাই। গতকাল বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে এই দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন না জেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সেবার জন্য কোন কাজের বুয়া যায়। সেটাও কিন্তু সে পাচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের গডমাদার হচ্ছে খালেদা জিয়া। সে এই বাংলা ভাই সৃষ্টি থেকে শুরু করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। হরতাল-অবরোধ দিয়ে খালেদা জিয়া মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সেই অবরোধ-হরতাল এখনও তোলেনি। তার হুকুমে কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে! জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা এর চেয়ে বড় সন্ত্রাসী কাজ আর কি হতে পারে? সে তো জেলে আছে, বেশ ভালো আছে।

 তার জন্য আবার কারও কারও মায়াকান্নাও দেখি। অগ্নিসন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজরা যেন আর কখনো ক্ষমতায় আসতে না পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে আমরা সš§ান নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলতে পারি সেটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি, সেটা ধরে রাখতে হবে। ঘুষখোর, সুদখোর, এতিমের অর্থ চুরি করা, মানিলন্ডারিং, গ্রেনেড হামলাকারী, বোমা হামলাকারী, আগুনে পুড়িয়ে মারা অগ্নি সন্ত্রাসী এরা যেন এদেশের আর কোন দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে, দেশকে ধ্বংসের দিকে নিতে না পারে জাতির কাছে সেটাই আমার আহ্বান। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যখনই সুষ্ঠুভাবে চলতে শুরু করেছে তখনই আসলো ১৫ আগস্ট।  আর ১৫ আগস্টে যে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন সেটা খুনি রশিদ ও ফারুকের বক্তব্যেই প্রমাণিত। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন, যে নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলতে চায় বিএনপি। এটা তারা ভুলে যায় যে এক-একটা সিটের পিছনে তারা দুই তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছিলো। যে যখন যার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে তাকেই মনোনয়ন দিচ্ছে।

 একভাগ দিতে হচ্ছে লন্ডনে আর দুইভাগ দিতে হচ্ছে বাংলাদেশে। গুলশানের অফিসকেও সন্তুষ্ট করতে হয়েছে, পুরানো পল্টনের অফিসকেও। একটা সিটের জন্য দুই তিনজনে যারা মনোনয়ন দেয় তারা নির্বাচনে জেতার জন্য না। মনে হয় এটাকে একটা বাণিজ্য হিসাবে নিয়েছিলো তারা। আসলে আন্তর্জাতিকভাবে যে সার্ভেটা হয়েছিলো তাতে সবাই দেখতে পেয়ছিলো যে বিএনপি সিট পাবে না, সেই জন্য নির্বাচনটাকে তারা ব্যবসা বাণিজ্য হিসাবে নিয়ে নেয়। সেখানে সিট না পেয়ে অন্যদের দোষারোপ দেয়ার কোন মানে হয় না। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পরেই দেশের উন্নতি হচ্ছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নতি হয়েছে। আজকে আমরা ৮ দশমিক ১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।  মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ কোথায় নিয়ে যাবো। ২০১৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নত সমৃদ্ধ হবে। ২১০০ সাল পর্যন্ত আমরা একটা ছক তৈরি করার পরিকল্পনা আমরা নিয়ে নিয়েছি। তারই ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম, স্বাক্ষরতার হার, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম, বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিলো। আমরা প্রতিটি সেক্টরকে বেসরকারি খাতে উš§ুক্ত করে দিয়েছিলাম।

 এতে আমাদের অর্থনীতির চাকা আরও সচল হয়। দূর্ভাগ্য হলো ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারি নাই। আমাদের আসতে দেয়া হয়নি, সেটা একটা গভীর চক্রান্ত ছিলো। ২০০১ খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পরে অমানবিক নির্যাতন শুরু করেছিলো। এই নির্যাতনের শিকার শুধু আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী তা না, একদিনে ১৩ জন সচিবের চাকুরী নাই। শত শত সেনা অফিসার, সিভিল প্রাশসকদের চাকুরিচ্যুত করা হলো। আর যাদের চাকুরীচ্যুত করা হয়নি তাদের ওএসডি করা হয়েছিলো, যতদিন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলো তারা ওএসডি ছিলো। এভাবে তারা অত্যাচারের স্টিম রোলার চালাতে থাকে। তিনি বলেন, এই যে এতগুলি টেলিভিশন সেটা কে দিয়েছে? এতে বেসরকারি খাত উš§ুক্ত করেছে সেটা কে করেছে? এগুলো আমাদের সরকার করেছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীনতো করেনি। আমি যখনই প্রধানমন্ত্রী হয়েছি তখনই বেসরকারি টেলিভিশন উš§ুক্ত করে দিয়েছি৷ এটা শুধু টেলিভিশন না, এর মাধ্যমে কত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আর টক শোতে গিয়ে টক মিষ্টি কথা বলার কত মানুষ পাচ্ছে৷ টক টক কথাতো বলেই যাচ্ছে। এই দৃশ্যতো আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এই যে মানুষের কথা বলার সুযোগ, এত কথা বলতে সুযোগ দেয়ার পরেও, অত কথা বলা পরেও বলবে এই সরকার আমলে আমাদের কথা বলার অধিকার নাই। বলে যাচ্ছে কিন্তু। তারপরেও পর চর্চা করবে। আসলেই এই ধরণের পরচর্চা এক ধরণের অভ্যাস। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জাতীয় কমিটির প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।