‘খালি হাততালি দিলে হবে না, ওয়াদা করতে হবে’

‘খালি হাততালি দিলে হবে না, ওয়াদা করতে হবে’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার আমেরিকার চেয়েও কমিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ লক্ষ্য পূরণে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা বলেছিল বাংলাদেশ বটমলেস বাস্কেট হবে, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে তাদের দেখাতে চাই।

রোববার (১৪ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আগে দারিদ্র্যের হার আরও কমিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। আমরা যদি আরেকটু প্রচেষ্টা করি, আমাদের হাতে এখনও যে সময়টা আছে এটুকু সময়ের মধ্যে আমরা দারিদ্র্যের হার অন্তত আরও দুই-তিন ভাগ কমাতে পারবো।

তিনি বলেন, আপনারা বোধহয় জানেন, আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ। আমরা তাদের থেকে অন্তত এক শতাংশ কমাতে চাই। এবং সেটা আপনাদের প্রচেষ্টা থাকলে আমরা পারবো।

এসময় প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য পূরণে পরিকল্পনা ও কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, খালি হাততালি না, আপনাদের ওয়াদা করতে হবে; আপনারা এটা করবেন। আপনাদের ওয়াদা দিতে হবে আপনারা করবেন এবং আমি জানি আপনারা এটা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আপনাদের মেধা মনন, শ্রম দিয়ে কর্মক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা দেখাতে, লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করবেন। যারা বলেছিল বাংলাদেশ বটমলেস বাস্কেট হবে, তাদের দেখাতে চাই দারিদ্র্যের হার কমিয়েছি। ২০২৪ সালের মধ্যে তো আমরা আরও কমাবো। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ দক্ষিণ এশিয়ায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। আপনাদের চাকরি দীর্ঘকালের, আমাদের চাকরি স্বল্পকালের, আমরা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। এর মধ্যে কাজ করে আমরা দেশকে একটা জায়গা নিয়ে আসতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা বাজেট দিয়েছি। আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি, নির্বাচনে ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছি। সে লক্ষ্যটা হলো বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে।

তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ যেন মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, দেশকে যেন সেভাবে গড়ে তুলতে পারি। দেশকে সেভাবে যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সুশাসন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস-জঙ্গি, মাদক, খাদ্যে ভেজালসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসাইন, শেরপুর জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।