খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকটে বন্যার্তরা

খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকটে বন্যার্তরা

করতোয়া ডেস্ক : দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও মধ্যাঞ্চলের জামালপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এসব এলাকায় পানিবন্দি রয়েছে লাখ লাখ মানুষ। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকটে বন্যা কবলিতরা। এদিকে, পানি কিছুট কমলেও কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। পানিতে ডুবে আরো এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে কুড়িগ্রামে। জামালপুরে বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমলেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। চরম দূর্ভোগে জেলার বানভাসী ৫ লক্ষাধিক মানুষ। দুর্গত এলাকায় খাবার ও সুপীয় পানি এবং পশু খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার কোন ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় চরম কষ্টে রয়েছেন। রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ। শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাতন ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প¬াবিত হয়েছে।জেলার ৩৭ টি ইউনিয়নের ১ শ’ ৮৫ টি গ্রাম প¬াবিত হয়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ৬ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ ৬ জন মারা গেছে। পাঠদান বন্ধ রয়েছে ৬৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

উজানের ঢল আর বৃষ্টির পানিতে একের পর এক বাঁধ ধসে গাইবান্ধার নতুন নতুন এলাকা প¬াবিত হচ্ছে। গাইবান্ধা-সাঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি গাইবান্ধা পৌর শহর। বিভিন্ন উপজেলার সাথে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানির তোড়ে বাদিয়াখালিতে রেলপথ ধসে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ।এদিকে, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপরে বইছে। অভ্যন্তরীন নদীগুলোতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প¬াবিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি,চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদীবেষ্টিত ৫টি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ১৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আরও ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ত্রাণ সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের তুলনায় তা খবই অপ্রতুল। অন্যদিকে, যমুনার পানি বিপদসীমার ১,২৭ সেন্টিসেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বন্যাদুর্গতরা । টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরের টেপিবাড়ি এলাকায় ভূঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ ভেঙে নতুন করে আরো ২৫টি গ্রাম প¬াবিত হয়েছে। পানিবন্দি লক্ষাধিক। বৃহস্পতিবার রাতে ভুঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সাথে তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ভেঙ্গে যাওয়া অংশে মেরামত কাজে অংশ নিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কুড়িগ্রামে টানা নয়দিন ধরে পানিবন্দী মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে। এখন পর্যন্ত বন্যায় ৫৬টি ইউনিয়নের ৫৭৮টি গ্রাম প¬াবিত হয়েছে। পানিবন্দী অন্তত সাড়ে সাত লাখ।

 বেশিরভাগ বানভাসীদের কাছে পৌছায়নি খাবার। পানি কিছুটা কমলেও ব্রহ্মপূত্র ও ধরলা নদীর পানি এখানো বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বন্যায় পানিতে ডুবে আরো এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ৫দিনে ১২জনের মৃত্যু ঘটল। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে ইতিমধ্যে দীঘলবাক, আউশকান্দি ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প¬াবিত হয়েছে। পানি বন্দি অন্তত ২০ হাজার মানুষ।রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষ সীমাহিন দুর্ভোগে।