খাদ্যপণ্যে ভেজাল

খাদ্যপণ্যে ভেজাল

ভেজালকারীদের দৌরাত্ম কমছে না। ভেজাল চক্রের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সব চেষ্টা যেন ব্যর্থতায় পরিণত হয়। খাদ্যপণ্যে ভেজালের বিষ প্রতিরোধে একের পর এক আইন করা হচ্ছে। পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবু মিলছে না কাঙ্খিত ফল। ইফতারির অপরিহার্য উপকরণের মধ্যে রয়েছে ছোলা, পিয়াজু, বেগুনি, মুড়ি ও জিলাপি ছাড়াও দেশি- বিদেশি ফলমূল। এর প্রতিটাই ভেজালের শিকার। এসব পণ্য সামগ্রীতে ট্যানারিতে ব্যবহার্য বিষাক্ত রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড, রাসায়নিক সার, পোড়া মবিল, কেমিক্যাল রং ব্যবহার হচ্ছে। ফরমালিন আর কার্বাইড মেশানো ফল-ফলারি নিয়েই সাজানো হচ্ছে ইফতার। আম, কলা, পেঁপে সহ বিভিন্ন ফলমূল কেমিক্যাল মিশ্রণে কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ফলের আড়তে র‌্যাব ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) অভিযান চালিয়ে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম কারবাইড ও ইথোপেন স্প্রে করা এক হাজার মণ আম ধ্বংস করে দেয়। এ সময় ছয় প্রতিষ্ঠানের ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া ৪০ মণ নষ্ট ও পঁচা খেজুর জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে র‌্যাব সদর দপ্তরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, এখন বাজারে বিক্রি হওয়া পাকা আমগুলো আসলে অপরিপক্ক। এগুলো পরিপক্ক হতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। অধিকাংশ আম বাইরে হলুদ ও পাকা মনে হলেও ভেতরে কাঁচা। স্বাদে টক। তাই, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন পাকা আম না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন র‌্যাব সদর দপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট। যাবতীয় দুর্নীতি, অনিয়ম সহ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভোগ্য পণ্য বেচা-কেনা বন্ধ করা যাবে না। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তৎপর হবে  - এই প্রত্যাশা সচেতন সবার।