খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি

খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি

কৃষিখাত আমাদের বড় শক্তি। এ খাত কেবল মানুষের আহার জোগায় না, শিল্প ও রফতানি খাতের বিকাশেরও বড় উৎস এটি। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। পাঁচ মৌলিক অধিকারের একটি খাদ্যের অধিকার। নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা এর মধ্যেই পড়ে। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এ অধিকার বিভিন্নভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে খাদ্য দ্রব্যে নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যথাযথ পরিমাণে ব্যবহার করা হয় না বলে তা ক্ষতিকারক। ফলে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও নিরাপদ খাদ্য এখনো মানুষের নাগালের বাইরে। খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন পর্যায়ে কীটনাশক বা বালাইনাশক, সংরক্ষণ পর্যায়ে পচনরোধক ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পর্যায়ে পুষ্টিবর্ধক ও স্থায়িত্ববর্ধক হিসেবে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। দিন দিন এসবের ব্যবহার বাড়ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত বছর নিরাপদ খাদ্য আইনের ধারায় ব্যবহার্য রাসায়নিক পদার্থের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করে একটি প্রবিধানমালা জারি করা হয়। উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারী যাতে খাদ্য দ্রব্যে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার না করে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এটি জারি করা হয়েছে। এ বিধিমালার লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশে প্রায় ২৫ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও ১০ লাখ পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উৎপাদক, বিপণনকারী, ভোক্তা সবাইকেই সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পৃথিবীর সব রাষ্ট্রেই ভূমি ব্যবহার বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, যা আমরা করি না। আমাদের কৃষিখাতকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার। খাদ্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমাতে কৃষি জমি রক্ষা ও উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়ার বিকল্প নেই।