খাদিজার ডাক্তার হবার স্বপ্ন কি ভেঙ্গে যাবে?

খাদিজার ডাক্তার হবার স্বপ্ন কি ভেঙ্গে যাবে?

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের দিনমজুর হতদরিদ্র খাদিজা খাতুন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে সে স্বপ্ন ভাঙ্গতে বসেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের রাণীবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান এবারে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে । তার মেধা তালিকায় ক্রমিক নম্বর ১৭৮১। দিনমজুর পিতা জালাল উদ্দিন ও মাতা জোসনা বেগমের ৭ সন্তানের মধ্যে ৩য় সন্তান খাদিজা। বাবা জালাল উদ্দিনের কোনো জায়গা জমি নেই। খাস জমিতে আছে বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ৩ ঘর বিশিষ্ট ছোট্ট একটি আবাসস্থল। বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে ৭ জনের এ পরিবারের অবস্থা নুন আনতে ফোরানোর মতো অবস্থা।

এ ব্যাপারে দিনমজুর জালাল জানান, সংসার চলানোয় যেখানে দায়, সেখানে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ তার কাছে দুঃস্বপ্ন। তবে তিনিও মেয়ের মতো স্বপ্ন দেখেন তার মেয়ে ডাক্তার হোক। ভর্তির সময় শেষে হতে চলায় সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগানোর চিন্তায় তিনি হতাশা। অন্যদিকে খাদিজা খাতুন জানান, ছোট থেকে তার ডাক্তার হওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল তার। বাড়িতে কাজ না করায় অনেক সময় বকা খাবার পরও তার ইচ্ছে পূরণের জন্য সে অধিকাংশ সময়ই লেখাপড়ার পিছনে ব্যয় করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার ভর্তির কোনো ব্যবস্থা বা টাকা জোগাড় না হওয়ায় বেশ চিন্তিত।

অপরদিকে রাণীবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক জানান, তার স্কুলের ছাত্রী খাদিজা ছিল লেখাপড়ায় অসাধারণ। তার হাতের লিখাও বেশ সুন্দর। সে তার বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসিতেও জিপিএ ৫ পেয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। অনেক সময় টাকার অভাবে মেয়েটি ভাল কোনো পোশাকও পড়ে আসতে পারতনা। পরিবারের কাজকর্ম সেরে সে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। প্রাক্তন এ শিক্ষকের প্রশ্ন  যদি টাকার অভাবে মেয়েটির লেখাপড়া মাঝপথে থমকে যায়, তা হলে কি হবে? খাদিজার স্বপ্ন পূরণের জন্য লেখাপড়ার খরচ যোগানোর লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী সাহায্য সংস্থা ,এনজিও  বা দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে আসত অথবা মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নিত তবে খাদিজার স্বপ্ন পূরণ হত। প্রয়োজনে খাতিজার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাদের রকেট একাউন্ট-০১৭৯৪৬৫৮৫৮৯৮ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৮০৫৯৭৫৩৫ টাকা পাঠাতে পারে বলেও জানান তিনি ।