ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় আসছেন না নতুন ভাড়াটিয়ারা!

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় আসছেন না নতুন ভাড়াটিয়ারা!

 আগুনে পুড়ে যাওয়া রাজধানীর চলন্তিকা মোড় সংলগ্ন ঝিলপাড় বস্তির বাসিন্দারা দ্বিতীয়দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। অব্যবস্থাপনার কারণে খাবার সংকটে ভুগছে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী। 


কারও কারও অভিযোগ, বস্তির নেতাদের যারা পরিচিত তারা খাবার পাচ্ছেন। আর যারা অপরিচিত তারা খাবার পাচ্ছেন না। বস্তির নতুন ভাড়াটিয়ারা খাবার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নামও লেখাতে পারছে না।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বস্তিতে অবস্থান করে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তিনটি স্থান থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ঝিলপাড়, আরামবাগ ও চলন্তিকা। আরামবাগ অংশের কিছু বস্তিবাসী অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাতে তারা শেষ খাবার পেয়েছিলেন। সকালে তারা নাস্তা পাযননি। 

আরামবাগ ঈদগাঁ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের খাবারের রান্না হয় এ মাঠে। গতকালের তিন পাতিল রান্না করা খিচুড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। ১৫ টি ডেকচিতে করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য। 

কিন্তু এই খাবার বস্তির বাসিন্দাদের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। 

তারা বলছেন, খাবারের সংকট রয়েছে। আর এর বড় কারণ অব্যবস্থাপনা। ঝিলপাড় অংশের বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের তালিকা করছেন। 

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এই তালিকায় কারো নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আবার হচ্ছে না। বস্তিতে যারা তিন থেকে চার মাস আগে ভাড়া এসেছেন তাদের স্থানীয় নেতারা চিনেন না বলে বিদায় করে দিচ্ছেন। অপরিচিত হওয়ার কারণে ঠিকভাবে খাবারও পাচ্ছেন না এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খাতায় বা কাগজে নাম লেখাতে পারছেন না। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে অপরিচিত নতুন ভাড়াটিয়া রয়েছেন কমপক্ষে চারশ’ জন। তাদেরই একজন ফিরোজা বেগম। আরামবাগ বস্তি অংশের একটি ঘরের ভাড়াটিয়া তিনি। তিন ছেলে-মেয়েসহ এই একটি কক্ষের ঘরেই থাকতেন তিনি। 

 সঙ্গে আলাপকালে ফিরোজা বলেন, অন্যের বাসায় কাজ করে বাড়ি ভাড়া দিতে হয়েছে প্রতি মাসে ২২০০ টাকা। সবই পুড়ে গেছে, কিছুই নাই। 

তিনি বলেন, গতকাল রাতে শেষ খাবার পেয়েছি। সকালে পর্যন্ত কোনো খাবার পাইনি। ক্ষতিপূরণ বা সাহায্য কিভাবে পাবো তাও জানি না। বাড়িওয়ালার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে খুঁজে পাচ্ছি না।

বস্তির ঝিলপাড় অংশের দুই বাসিন্দা আক্কাস ও হারুন অভিযোগ করে বলেন, ৪ মাস আগে এখানে ঘর ভাড়া নিই। এখন আমাদের এখানে কেউ-ই চিনে না। বস্তির নেতারাই খাবার ও সাহায্যের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু আমরা অপরিচিত হওয়ায় ঠিকমতো খাবার পাচ্ছি না। আর ক্ষতিগ্রস্তদের খাতায় নাম লেখাতে পারছি না। আগুনে তো সবই হারালাম। আমাদের কী হবে ?

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রজ্জব হোসেন বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি ও বস্তিবাসীদের শনাক্ত করে দিচ্ছি।

ডিএনসিসি ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের চৌধুরী  বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা সাহায্য সহযোগিতা করছি। তারা (ক্ষতিগ্রস্তরা) বাসস্থানে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে থাকবো। 

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে এই বস্তির ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তালিকা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা চিহ্নিত করে তালিকা করছেন। 

ডিএনসিসি (অঞ্চল-২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীর বলেন, এখানে খাবারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার আছে। প্রতি বেলায় খাবার দেওয়া হচ্ছে। গৃহহারা মানুষ যেন অনাহারে দিন না পার করে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্তদের বাসস্থানের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সিটি করপোরেশন তাদের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।