ক্রেতাদের দাবি চড়া দাম, বিক্রেতাদের অস্বীকার

ক্রেতাদের দাবি চড়া দাম, বিক্রেতাদের অস্বীকার

 পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাট এখনো জমে ওঠেনি। তবে উপজেলাগুলোর গ্রামীণ হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রতাদের সমাগমে বেশ জমজমাট ভাব চলে এসেছে।

বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইয়ের মাদ্রাসা কমপ্লেক্স সংলগ্ন বৃহৎ পশুর হাট শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) থেকে। যা চলবে কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে না হতেই চরমোনাইয়ের হাটটিতে কোরবানির পশুতে ভড়ে যায় পুরো মাঠ। বিকেল নাগাদ পশু আর বিক্রেতাদের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। হাট থেকে কেউ পশু কিনছেন আবার কেউ হাতে বেশ কয়েকটা দিন সময় থাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

হাট ঘুরে ক্রেতারা বলছেন, শুরুর দিকে হওয়ায় বিক্রেতারা আকার-আকৃতি ভেদে পশুর যে দর হাঁকছেন তা আকাশচুম্বি, তাই আরো ২/১ দিন গেলে পশুর দর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আর বিক্রেতারা বলছেন, খাদ্যের খরচ বেড়েছে তাই পশুর দরও বেড়েছে, তবে পশুর যে দর হাঁকানো হচ্ছে তা গতবছরের হিসেবে নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
চরমোনাইয়ের মাদ্রাসা কমপ্লেক্স সংলগ্ন পশুর হাটপশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বরিশাল সদর ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি, খুদ্র ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল নিয়ে এসেছেন এ হাটে। আবার রয়েছে গৃহস্থলির গরু- ছাগলও, যার প্রতি ক্রেতাদের দুর্বলতাও রয়েছে বেশ। হাটে আকার ভেদে ছাগল বা খাসির দর হাঁকা হচ্ছে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে এ হাটেই সাড়ে ৩ লাখ টাকা একটি গরুর দাম হেঁকেছেন রাসেল নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।

দাম যতই হোক গরু প্রতি খাজনা ১ শ’ টাকা আর খাশি প্রতি খাজনা ৫০ টাকা আদায়ের এ হাটে ক্রেতাদের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পাইকারও রয়েছেন। যারা এ হাট থেকে গরু কিনে নিয়ে শহুরে হাটে বেচার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সবমিলিয়ে ক্রেতাদের মতে ছাগল বা খাসির দাম যেমন-তেমন হলেও গরুর দাম অনেকটাই চড়া।

আ. রব হাওলাদার নামে এক ক্রেতা  বলেন, হাটে ভিনদেশি গরু নেই, খামারির গরুই বেশি রয়েছে। অসুস্থ গরু চোখে পড়েনি। তবে যে হারে গরুর সরবারাহ রয়েছে তাতে দাম কমা উচিত। কিন্তু এখানে তো গত বছরের ৪৫/৫০ হাজার টাকার গরু ৭০/৮০ হাজার টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে। আর যে ২/১ টি গরু বাড়িতে পালা হয়েছে, যাকে গৃহস্থের গরু বলা হয়ে থাকে তার দাম তো আরো চড়া।

আলহাজ সুলতান তালুকদার নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, ঘুরে ঘুরে বাজার দেখে বেশ কয়েকটি গরু পছন্দ হয়েছে। তবে যে দাম চাচ্ছে বিক্রেতারা তা হয় না। যা বলছি তাতেও দিতে চায় না, হাতে সময় আছে আরো ২/১ দিন দেখতে চাই। আমদানি ভালো হলে গরুর দর পড়ে যাবে।

তবে পশুর দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে ভাষানচরের গরু ব্যবসায়ী মোতাহার মিয়া জানান, গত কোরবানির পর গ্রামের হাট থেকে ৮টি গরু কিনে লালন-পালন করেছেন। গত বছর একটি গরুর পেছনে ১ টাকা খরচ হলে এ বছর হয়েছে দেড় টাকা, তাহলে গরুর দাম বাড়বে না কেন?

মোটাতাজাকরণ প্রকৃয়া ছাড়া গরু লালন-পালন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ভূষি, খৈল, চাল ও লবণ- এ চারটি খাবারের দাম বৃদ্ধি না পেলে গরু পালনে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকতো।

তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর তুলনামূলকভাবে গরুর দাম বাড়েনি বলে জানালেন ব্যবসায়ী মাসুক হাওলাদার। তিনি বলেন, গরুর দাম ঠিকই রয়েছে। হাটের শুরুতে ক্রেতারা বাড়তি দামের অভিযোগ প্রতিবারই করেন। আবার শুরুর বাজারে বিক্রেতারা দাম বেশি বললেও আলোচনায় ঠিক দামেই পশু বিক্রি করে থাকেন। কারণ কেউই পশু নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য হাটে আসেন না।

কুষ্টিয়া থেকে বরিশালে ৩৫টি গরু এনেছেন সাহেবের হাট এলাকার মো. রাসেল। যারমধ্যে একটি গরুর দামই তিনি হেঁকেছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তিনি বলেন, একটি গরু গ্রামের হাট থেকে কিনে নিয়ে লালন-পালন করতে খরচের চাইতেও শ্রমটা বেশি হয়।

তাই তিনি প্রতিবছর কোরবানির আগে কুষ্টিয়া-বাগেরহাট থেকে গরু কিনে এনে হাটে ওঠান। পরিচর্যার বিষয়টি রপ্ত থাকায় ওইসব জায়গার গরু বেশ ভালোই হয়। দামও সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় দূর থেকে এনেও প্রতিবার সব গরুই বিক্রি করেন তিনি।

হাট থেকে শুরু করে আশপাশের কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কুষ্টিয়া বা দূর থেকে সড়ক পথে গরু আনতে পুলিশকে কিছু চা-পানির টাকা দিতে হলেও মূল চাঁদাবাজি যাকে বলা হয় তা কোথাও নেই বলে জানান ব্যাপারীরা।