ক্রিকেটের জন্য ভাইদের সঙ্গে দেখাও করতে পারেন না তাহির

ক্রিকেটের জন্য ভাইদের সঙ্গে দেখাও করতে পারেন না তাহির

উইকেট শিকারের পর ইমরান তাহিরের উদযাপন বেশ পাগলাটে ধরনের। কোনো ব্যাটসম্যানের উইকেট তুলে নিলেই সে কী ভোঁ দৌড় তার। পুরো মাঠ জুড়ে পাক দেন তিনি। মাঠে কিছুটা খ্যাপাটে আচরণ করতেও দেখা যায় তাকে। সচারাচর যা করে থাকেন ফাস্ট বোলাররা। তবে খেলার মাঠে তাহির যেমন আচরণই করে থাকুক না কেন; ব্যক্তি তাহির যে একজন নিপাট ভদ্র লোক তা তিনি নিজেই প্রমাণ করলেন গতকাল (শনিবার) সংবাদ সম্মেলনে এসে।

বাংলাদেশে বিপক্ষে তাহির আজ (রোববার) ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামবেন। ২৪তম দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার হিসেবে শততম ওয়ানডে খেলার রেকর্ড বুকে ঢুকতে যাচ্ছেন তিনি। ম্যাচকে সামনে রেখে যারপরনাই খুশি এই লেগ স্পিনার, 'দেখুন, এটা বিশেষ এক অনুভূতি। ২০১১ বিশ্বকাপে আমি যখন আমার প্রথম ম্যাচ খেলি-তখনকার অনুভূতি আর এখনকার অনুভূতি প্রায় একই। আমি সবসময় স্বপ্ন দেখতাম; তবে আমি যে এখানে পৌঁছতে পারব তা ভাবিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে শততম ম্যাচ খেলা সম্মানের। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আশাবাদী, দেশের জন্য আমি সবটুকুই দিতে পারব।'


দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজের দেশ বানিয়ে ফেললেও ৪০ বছর বয়সী এই লেগির জন্ম কিন্তু পাকিস্তানের লাহোরে। কিন্তু বর্তমানে তার সবকিছু জুড়েই যে দক্ষিণ আফ্রিকা তা তিনি নিজেই জানিয়ে দিলেন। এমনকি দেশের হয়ে খেলার জন্য শেষ ২ বছর আপন ভাইদের সঙ্গে দেখা করতে নিজের জন্মভূমিতেও যেতে পারেন না বলে গণমাধ্যমকে সরাসরি জানান তাহির।

বয়স ৪০। এই বয়সে এলে অনেকে হয়তো খেলাই ছেড়ে দেন। তবে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঠিকই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তাহির। তবে নিয়মিত খেলার জন্য নিজেকে ফিট রাখতে নিজের সঙ্গে যে নিজে লড়ে যাচ্ছেন তাও জানালেন তিনি। বললেন, বাড়তি পরিশ্রমের কথাও। কষ্ট হলেও দলকে নিজেদের সেরা দেয়ার জন্যেই এসব করে যাচ্ছেন তিনি। 

এদিকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নতুন বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাহির। আর তাতেই বাজিমাত করে বসেন তিনি। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফিরিয়ে দেন জনি বেয়াস্টোকে। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক কীর্তি। কেননা এর আগে, আর কোনো স্পিনার ইনিংস শুরু করার ওভারে উইকেট তুলে নিতে পারেননি।

এই চমকে দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'গত বছর থেকে আমি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অনুশীলন করে আসছি। আমরা জানতাম এটা সবাইকে চমকে দেবে। চ্যালেঞ্জটা ভালো ছিল। কারণ বিশ্বের সেরা দুই ওপেনারের বিরুদ্ধে বল করা মোটেও সহজ কাজ নয়- যারা কিনা আবার দুর্দান্ত ফর্মে আছে। আমি খুব আনন্দিত, কারণ পরিকল্পনাটি খুব সুন্দরভাবে প্রতিফলন ঘটেছে।' 

এদিকে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে কেমনভাবে নিচ্ছেন তাহির। যারা কিনা স্পিনটাকে খুব ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারদর্শী। তাহিরের উত্তর, 'সবাই জানে তারা স্পিন নির্ভর উইকেটে খেলে বেড়ে উঠেছে। নিজেদের দিনে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। একজন স্পিনার হিসেবে আমি এবং শামসি প্রস্তুত আছি। খুব ভালো একটি পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বাকি সব ম্যাচগুলোর মতই আমরা এ ম্যাচের জন্যও প্রস্তুত। আশা তো করি আমাদের জন্য একটি শুভদিন অপেক্ষা করছে।