ক্যাভানো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক

ক্যাভানো এখন যুক্তরাষ্ট্রের  সুপ্রিম কোর্টের বিচারক

করতোয়া ডেস্ক : যৌন অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক, বিক্ষোভ আর তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে শপথ নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ব্রেট ক্যাভানো। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট শনিবার ক্যাভানোর মনোনয়ন ৫০-৪৮ ভোটে অনুমোদন করে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাতে ক্যাভানোকে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে তিক্ত বিতর্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, যে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন। আর তার নিয়োগ অনুমোদনের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ বিচারকের সুপ্রিম কোর্টেও রক্ষণশীলরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেব দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গত ৩১ জুলাইয়ে বিচারপতি অ্যান্থনি কেনেডি অবসরে যাওয়ার পর তার শূন্য পদের জন্য ব্রেট ক্যাভানোকে বেছে নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টিন ব্ল্যাসি ফোর্ড তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর শুরু হয় বিতর্ক। ক্যাভানোর মনোনয়ন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের বিতর্কে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্র।

 ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে চলে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ। কিন্তু একেবারে শেষ সময়ে এসে অধ্যাপক ফোর্ডের অভিযোগ তদন্ত করে এফবিআই যে প্রতিবেদন গত ৪ অক্টোবর সিনেটে উপস্থাপন করে, তাতে সিনেটরদের পাল্লা ক্যাভানোর দিকে ঝুঁকে যায়। শনিবার সিনেটে ভোটাভুটির আগে ওয়াশিংটন ক্যাপিটলে জড়ো হয়ে ক্যাভানোর মনোনয়নের বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখায় শত শত মানুষ। এমনকি ভোটের সময় সিনেটের পাবলিক গ্যালারি থেকেও ‘শেইম শেইম’ বলে চিৎকার করতে থাকেন অনেকে।  অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সিনেটের ভোটাভুটিতে ক্যাভানোর মনোনয়ন অনুমোদন পাওয়ার পর বিকালে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাকে সুপ্রিম কোর্টের নবম সদস্য হিসেবে সাংবিধানিক শপথ পড়ান। আর অবসরে যাওয়া বিচারপতি অ্যান্থনি কেনেডি তাকে পড়ান বিচারিক শপথ। যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের কোনো বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ৫৩ বছর বয়সী বিচারপতি ক্যাভানো চাইলে মৃত্যু পর্যন্ত ওই দায়িত্বে থাকতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টে তিনি যখন শপথ নিচ্ছিলেন, তখনও আদালত চত্বরের বাইরে বিক্ষোভ চলছিল।  এক পর্যায়ে কয়েকজন সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে গিয়ে প্রধান ফটকে  আঘাত করতে থাকেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্ট্যাচু অব জাস্টিসের ওপরে চড়েও সেøাগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। ক্যাভানোর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। সিনেটে ভোটাভুটির পর এক টুইটে ক্যাভানোকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডেমোক্র্যাটদের ভয়াবহ আক্রমণ সামলে টিকে গেছেন ক্যাভানো। ট্রাম্প বলেছেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলতে গিয়ে অধ্যাপক ফোর্ড যে ‘ভুল লোকের নাম’ বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত।