কোন পথে যাচ্ছে ব্রিটেন?

কোন পথে যাচ্ছে ব্রিটেন?

তৃতীয়বারের মতো ব্রেক্সিট বা ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার পর দেশটির পার্লামেন্টে কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রস্তাবের ওপর কয়েক দফা ভোটের মাধ্যমেই কি ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার এই সংকটের সমাধান হবে?

যদিও এরই মধ্যে ইঙ্গিতসূচক ভোটের এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেটাও ব্যর্থ হয়েছে।


তাহলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পথ কি বন্ধ হয়ে গেল ব্রিটেনের? এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সোমবার আরেক দফা ইঙ্গিতসূচক ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রক্রিয়াও আগের বারের মতই হবে। ব্রিটিশ এমপিরা স্পিকারের কাছে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। এরপর স্পিকার সিদ্ধান্ত নেবেন কোন প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে আর কোনটিতে নয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া মোট তিনটি প্রস্তাবই তোলা হবে। তবে যুতসই মনে হলে স্পিকার আরো বেশি প্রস্তাব পার্লামেন্টে তুলতে পারবেন। ভোট প্রক্রিয়া হবে-প্রতিটি প্রস্তাবের ওপর এমপিরা হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে পারবেন।

শুক্রবার সমর্থনসূচক গণভোটের পক্ষে ২৬৮, বিপক্ষে ২৯৫ ভোট পড়েছে। সমর্থনসূচক গণভোটের মাধ্যমে দেশটির জনগণকে যে কোন প্রস্তাবে রাজি হতে হত। কিন্তু সেক্ষেত্রে ব্যালটের ওপর কি প্রশ্ন লেখা থাকবে, সেটা এমপিরা নির্ধারণ করবেন।

চুক্তি ও কাস্টমস ইউনিয়নের পক্ষে ২৬৪ এবং বিপক্ষে ২৭২ ভোট পড়েছে। এ প্রস্তাব পাস হলে, ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য মেকে সমর্থন দিতে হতো এমপিদের, কিন্তু সেক্ষেত্রে শর্ত ছিল যুক্তরাজ্য ইইউ এর সাথে একটা কাস্টমস ইউনিয়নে থাকবে।

কাস্টমস ইউনিয়ন হচ্ছে, এক ধরণের বাণিজ্য চুক্তি যাতে দুই বা তার বেশি দেশকে যুক্তরাজ্যে নিজেদের পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন কর বা শুল্ক দিতে হবে না। মে এই প্রস্তাব আগে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

লেবার দলের বিকল্প পরিকল্পনার পক্ষে ২৩৭ এবং বিপক্ষে ৩০৭ ভোট পড়েছে। কাস্টমস ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ছিল লেবার দলের অবস্থান, সঙ্গে তারা চাচ্ছিল ইইউ এর একক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সংযোগ যাতে থাকে।

কিন্তু ইইউ এর আইন তা সমর্থন করেনা, অর্থাৎ ইইউয়ের অন্তর্ভূক্ত নয় এমন কোন রাষ্ট্র ইইউ এর কোন নীতি বিষয়ে কথা বলা বা ভেটো দেবার অধিকার রাখে না।

সর্বজনীন বাজারের পক্ষে ১৮৮ এবং বিপক্ষে ২৮৩ ভোট পড়েছে। এ প্রস্তাবে যুক্তরাজ্য নরওয়ে, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং লিচেনস্টেইনের সঙ্গে মিলে ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার অংশ হবে। এর ফলে ইউরোপের সর্বজনীন বাজারের অংশ থাকতে ব্রিটেনের সমস্যা হতো না।

ব্রেক্সিট নিয়ে এখন যুক্তরাজ্যের যে মরিয়া অবস্থা তাতে পথ খুঁজে পেতে এমনই আরো বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে পার্লামন্টে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া নিয়ে করা চুক্তিটি ৫৮ ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়। চুক্তির পক্ষে ভোট পড়ে ২৮৬ টি আর বিপক্ষে ভোট দেন ৩৪৪ জন এমপি।

ব্রেক্সিটের জন্য এটিই ছিল একমাত্র চুক্তি যাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতাদের সাথে ব্রিটেনের মতৈক্য হয়েছিল। কিন্তু এ চুক্তিটি পার্লামেন্টে এতটাই সমালোচিত হয় যে পর পর তিনবার ভোটে দিয়েও এটি পাস করাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।