কোচাশহরে ৩০০ কোটি টাকার শীতবস্ত্র বিক্রির অপেক্ষায়

কোচাশহরে ৩০০ কোটি টাকার শীতবস্ত্র বিক্রির অপেক্ষায়

কৃষ্ণ কুমার চাকী, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: শীতবস্ত্র তৈরিতে বিপ্লব ঘটেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহরে। শিল্পক্ষেত্রে অনগ্রসর এই জেলায় একমাত্র শিল্পাঞ্চল হিসেবে এই এলাকা পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ শীতবস্ত্র তৈরি হচ্ছে এখানে।এলাকাবাসী জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্র্তী মহিমাগঞ্জ, শালমারা, শিবপুর ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাতে অনেক হোসিয়ারী কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে এই জেলার সবচেয়ে বড় হোসিয়ারী পাইকারী বাজার গড়ে উঠেছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের নয়ারহাটে।সরেজমিনে কোচাশহর, নয়ারহাট ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত হোসিয়ারী কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন শীত মৌসুম উপলক্ষে কয়েকশ’ কারখানায় তৈরি হচ্ছে নানা রকমের বাহারী শীতবস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে সোয়েটার, মাফলার, কার্ডিগান, মোজা, শিশুদের পোশাক এমনকি মেয়েদের চুল বাঁধার গার্ডারব্যান্ড। একটি ছোট কাখানায় বছরে প্রায় ১০ হাজার পিছ সোয়েটার এবং তুলনামূলকভাবে বড় কারখানাগুলো প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ পিছ সোয়েটার তৈরি হয়। বড়দের সোয়েটার প্রকারভেদে প্রতিপিছ ২০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাফলার প্রতিপিছ ৫০ থেকে ১০০ টাকা, গার্ডিগান প্রকারভেদে প্রতিপিছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাইকারী বিক্রি হচ্ছে।

এ বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার শীতবস্ত্র আসন্ন শীতে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। যেন দম ফেলারও ফুরসৎ নেই। কেউ দক্ষ কারিগর হয়ে কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন, কেউ তৈরী শীতবস্ত্র সেলাই করছেন। আবার তুলনামূলকভাবে বয়স্ক ব্যক্তি ও মহিলারা সুতা তোলার কাজ করে পরিবারের সকলের জন্য দু-বেলার অন্নের সংস্থান করতে পেরেছেন। নিজের ছেলে- মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে পারছেন তাঁরা। হোসিয়ারী কারিগর জহুরুল ইসলাম জানায়, গত ৫ বছর ধরে সে এই পেশায় কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের ৩ বেলা আহারের সংস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচের জন্য এখন আর দু:শ্চিন্তা করতে হয়না। তাই শহরে ৩০০ কোটি টাকার
সে তাঁর ছোটভাই জুয়েল মিয়াকেও এই পেশায় এনেছে। তাঁর ছোট ভাইও এখন কাজ শিখে বেশ উপার্জন করছে। নয়ারহাটে রাসেল ফ্যাশানের কর্ণধার শাহাদুল ইসলাম জানান, এই খাতে সরকারিভাবে তেমন কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যার সন্মূখীন হচ্ছেন কারখানা মালিকরা। কারখানার কাজের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত সুতো ও মুলক ভারত, থাইল্যান্ড, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু সুতো আমদানীর ক্ষেত্রে মোটা অংকের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন তাঁরা। আরেক কারখানা মালিক তছলিম উদ্দিন জানালেন, প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে অনেকেই কারখানা চালাতে পারছেন না। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চড়া সুদ এবং জটিল শর্তের কারণে অনেকেই মধ্যসত্বভোগী দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যবসার জন্য টাকা নিয়ে আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পেরে সর্বশান্ত হয়েছে। এছাড়াও গরমকালে ২৪ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বাকী সময় বিদ্যুতের অভাবে কাখানার উৎপাদন বন্ধ থাকে। ফলে আশানুরূপ শীতবস্ত্র উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, এ বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার শীতবস্ত্র বিক্রি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কোচাশহরের নয়ারহাটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি ট্রেনিং সেন্টার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অচিরেই ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়াও রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ এবং অনলাইন ব্যাংকিং এর ব্যবস্থা করা হবে।