কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়: দুদক চেয়ারম্যান

কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়: দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যতই ক্ষমতাবান হোক, তার যে বিচার একদিন হবে, দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজার মধ্যে দিয়ে সেই বার্তা তারা দিতে পেরেছেন।  সোমবার রাজধানীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সম্ভবত আমরা একটা বার্তা দিতে পেরেছি সমাজে, এটাতো আপনাদের স্বীকার করতে হবে, নোবডি ইজ আনটাচেবল। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, যারা ক্ষমতাবান, যারা ক্ষমতার শীর্ষে আছেন, তাদেরকেও আমরা আদালতে নিতে পেরেছি। এবং আপনারা জানেন, আমি বলতে চাই না আমরা ক্ষমতাবানদেরকে আদালতে নিয়েছি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধ্ ুআন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টিআইবির জাতীয় সম্মেলনের একটি প্যানেল আলোচনার পর এক প্রশ্নে ‘বড় দুর্নীতিবাজদেরও’ বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকারের কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যের পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান তার কাছে জানতে চান, বড় বড় দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতাবানদের বিষয়ে দুদক সক্রিয় নয় বলে জনমনে ধারণা রয়েছে। এক্ষেত্রে দুদকের অবস্থান কী? উত্তরে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কৌশলী পদক্ষেপে’ অগ্রসর হওয়ায় বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে সময় নিচ্ছেন তারা। তবে কেউ ‘ছাড় পাবে না’। ছোট গাছ উপড়ানো যেমন সহজ, বড় গাছ উপড়ানো তেমন কঠিন কাজ। আমাদেরকে কৌশলী হতে হয়। এটা একটা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আপনি সবসময় এগিয়ে যাবেন- সেটা না। আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে, আবার পিছিয়েও আসতে হতে পারে। আপনারা আমার সঙ্গে একমত হবেন, এটা এত সহজ ব্যাপার না। ইকবাল মাহমুদ বলেন, উই আর স্মল, দে আর বিগ। তবে এটা ঠিক, আমরা বড়দেরকে বিচারের আওতায় আনি নাই- এমন কথা সম্পূর্ণ সত্য না। আপনারা দেখেছেন, দৃশ্যমান কিছু আমরা করেছি। টু ক্রিয়েট সাম এক্সামপল দ্যাট হ্যাজ ডান। কথা ঠিক, আমরা বেশি মাত্রায় করতে পারতেছি না, প্রত্যাশার সঙ্গে অ্যাচিভমেন্ট- সেটার অনেক ফারাক। সেটা আমরা বুঝতে পারি। তবে সেটা স্ট্র্যাটেজিক। বড় দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা ‘সময়ের ব্যাপার’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, সময় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন কোনো কাজ করতে চাই না যে আপনি একটা কাজে হাত দিয়েছেন, হাতটা তুলে নিলেন, তাতে স্ট্র্যাটেজিক্যালি সমস্যা হয়।

আমরা যদি হাত দিই, তবে হাত দেবই। হাত আমরা তুলে নেব না। দুর্নীতি দমনে দুদকের কৌশলের কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, একটি কৌশলে দুর্নীতি একেবারে কমে যাবে- তা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমরা হয়ত কিছু এগিয়ে নিয়ে যাব, পরের কমিশন আরও কিছু এগিয়ে নিয়ে যাবে। সময় প্রয়োজন সেজন্য। আপনারা হতাশ হবেন না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার পদক্ষেপ নিচ্ছি আমরা। কিছু সফল হয়েছি। দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়াটা একেবারে অসফল- তা না। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় যেতে পারি নাই, সেটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় যাওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন, কত লোক জালে আটকা পড়ে গেছে। আমরা মাঠ প্রস্তুত করছি। এর আগে প্যানেল আলোচনায় টিআইবিসহ দুর্নীতিবিরোধী সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সমালোচনাকে ‘স্বাগত’ জানানোর কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আপনারা যদি সমালোচনা না করেন, আমরা নিজেদের ভুল বুঝব কীভাবে? আমরা সেটা ধরে এগিয়ে যেতে চাই। গত দুই বছরের দায়িত্বকালে আমি টিআইবির সমালোচনায় বিব্রত হই না। কারণ আমি চাই আপনারা সমালোচনা করুন। ইকবাল মাহমুদের ভাষায়, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারের লেজুড়বৃত্তি করার জন্য দুদক গঠিত হয়নি। এ প্রতিষ্ঠান জনগণের প্রতিষ্ঠান। ‘দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক এবং চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কারিগর’-এর উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব বক্তব্য দেন। সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য, স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস, ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়েস এবং ওয়াইপ্যাক সদস্যদের নিয়ে এ জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি। এর আগে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান শপথ বাক্য পাঠ করান।