কৃষি জমি রক্ষায় আইন

কৃষি জমি রক্ষায় আইন

দেশে কৃষি জমির পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমছে। তার প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। সেই সঙ্গে চলছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বাড়ি ঘর নির্মাণ এবং জলাভূমি ভরাট ও বনভূমি ধ্বংস করার আত্মবিনাশী প্রক্রিয়া। এভাবে চলতে থাকলে বসবাস উপযোগী পরিবেশই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, নিকট ভবিষ্যতে সমগ্র জনগোষ্ঠীর এক বিপর্যয়কর অবস্থায় গিয়ে পড়বে। আসন্ন এই বিপর্যয় রোধে সরকার ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি ক্রয় ও ব্যবহার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনের লঙ্ঘন করা হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদ  বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার দন্ড  রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে এই আইনের বিষয়ে মতামত চেয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 খসড়ার ওপর মতামত নিয়ে তা অনুমোদনের জন্য খুব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। সূত্র জানায়, আবাদি জমি অন্য খাতে ব্যবহার বন্ধের জন্য দেশে কার্যকর কোনো আইন না থাকায় রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসলি জমি। এ অবস্থায় ২০০১ সালে কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহারে একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। পরে সেটিকেই আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন এই আইনটিকে ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, কৃষি জমি রক্ষা ও পরিকল্পিত জনবসতি নির্মাণের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।