কৃষকের গম কিনতে খাদ্য দফতরের ‘কারসাজি’

কৃষকের গম কিনতে খাদ্য দফতরের ‘কারসাজি’

ধীরগতিতে চলছে রাজশাহী বিভাগে কৃষকের কাছ থেকে এবারের গম কেনা। প্রায় এক মাসেও লক্ষ্যমাত্রার দশ শতাংশ গম ওঠেনি খাদ্য গুদামে। এরই মধ্যে কৃষকের গোলা থেকে গম চলে গেছে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কব্জায়। ফলে এবারো গমের নায্যমূল্য পাননি চাষি।

সরকারি উদ্যোগে গম কেনায় কারসাজিতে এবারও কৃষকের লাভের অর্থ যাবে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের পকেটেই। আর এজন্যই গম কেনায় গড়িমসির অভিযোগ আনছেন কৃষকরা।

তবে খাদ্য দফতরের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৭ এপ্রিল গম ক্রয় সংক্রান্ত খাদ্য অধিদফতরের আদেশের চিঠি পেয়েছে আঞ্চলিক খাদ্য দফতর। এর কয়েক দিনের মাথায় বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে গম কেনা। এবার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই গম কেনা হবে এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর এই কারণেই গম কেনায় ধীরগতি।

এদিকে ফসলের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রাস্তায় নেমেছেন কৃষক বাবার সন্তানরা। বুধবার কৃষকের সন্তান রাজশাহী নগরী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশ থেকে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্মের লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে রাজশাহী অঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর জানিয়েছে, এই মৌসুমে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৫০৩ টন। এর মধ্যে ১৩ মে পর্যন্ত কেনা হয়েছে এক হাজার ৪৫৬ টন। শতকরা হিসেবে যা লক্ষ্যমাত্রার ৭ শতাংশের কম।

এক মাসেও গম কেনা শুরু হয়নি রাজশাহী ও নাটোর জেলায়। রাজশাহীতে ৩ হাজার ৮৭ টন এবং নাটোরে ২ হাজার ৬৫৫ টন গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

নওগাঁয় এ বছর গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৮১২ টন। এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে মাত্র ৮৬ টন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ২৭১ টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে ১৩০ টন।

এ বছর গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা পাবনায় ৩ হাজার ৩৭১ টন, সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ১৫১ টন, বগুড়ায় এক হাজার ২৭১ টন এবং জয়পুরহাটে এক হাজার ৭৮৬ টন। এই চার জেলার মধ্যে কেনা হয়েছে পাবনায় ৬০ টন, সিরজগঞ্জে ১৭০ টন, বগুড়ায় ১৫৬ টন এবং জয়পুরহাটে ৮৫৫ টন।

রাজশাহী ও নাটোরের কৃষকরা বলছেন, খাদ্য দফতর তাদের গম কিনছে না। কবে গম কেনা শুরু হবে সেটিও নিশ্চিত করছেন না। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কম দামেই গম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।

কৃষকদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে কিনে নেয়া গম মজুদ করে রেখেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও মজুদদাররা। শোনা যাচ্ছে, তারাই খাদ্য গুদামে গম দেবেন। এতে কৃষকের লাভের পুরো টাকায় যাবে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের পকেটে। তাদের সুবিধা করে দিতেই খাদ্য দফতরের এই গড়িমশি বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

তবে কৃষকদের এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহী সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২৮ টাকা কেজি দরে একমাস ধরে চলছে গম কেনা। অনিয়ম ঠেকাতে কয়েক ধাপে তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে গম কেনা হচ্ছে এবার। এতেই বিলম্ব হচ্ছে গম কেনায়।

তিনি স্বীকার করেন, অন্যান্যবার এক মাসেই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক গম কেনা হয়ে যায়। এবার এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ১০ শতাংশের নিচে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে গম ক্রয়। ওই সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এবার গম কেনায় অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন এই খাদ্য কর্মকর্তা।