কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের ফজীলত

কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের ফজীলত

আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক : পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থের নাম কুরআন শরীফ। যা স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের কালাম বা কথা। সমস্ত মাখলুকাতের উপর আল্লাহর যেমন সম্মান, সমস্ত কালামের উপর কালামুল্লাহর তেমন মর্যাদা। কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা প্রতিটি মানব সন্তানের জন্য অপরিহার্য। কুরআন শরীফের কয়েকটি হক রয়েছে যেমনঃ বেশি বেশি কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা। খুব বেশি আজমত ও সম্মান করা। তাই দামী ও উন্নতমানের জুজদান লাগানো এবং সম্মানজনক উঁচুস্থানে রাখা। খুব মুহাব্বত করা। কুরআন শরীফের হুকুম আহকাম মেনে চলা। নবী করীম সাঃ বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ নিজে শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয় সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। (বুখারী মুসলিম) অন্যত্র বলেন, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা সর্বোত্তম (নফল) ইবাদত। (কানজুল ইম্মাল) রাসূল সাঃ বলেন, ইলমে কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি ঐসব ফেরেশতাদের অন্তর্ভূক্ত, যারা মহাপুণ্যবান ও লেখার কাজে লিপ্ত। (বুখারী) মুসলিম শরীফের বর্ণনায় রাসূল সাঃ চমৎকার উপমা দিয়ে বলেন, যে মুমিন কুরআন তেলাওয়াত করে সে কমলালেবুর মতো। যার সুগন্ধি বড় চমৎকার এবং স্বাদও সুমিষ্ট। আর যে মুমিন কুরআন তেলাওয়াত করে না সে খেজুরের মতো। যার ঘ্রাণ মোটেই নাই অথচ স্বাদ বড় মিষ্ট। আবার যে মোনাফেক কুরআন তেলাওয়াত করে না সে কেঁদা ফল সমতুল্য যার সুগন্ধি মোটেই নাই এবং স্বাদও তিক্ত। আর যে মোনাফেক কুরআন পাঠ করে সে রাইহান ফুলের সদৃশ যার সুগন্ধি চমৎকার অথচ স্বাদ তিক্ত। আল্লাহ তায়ালা এ কুরআনের মাধ্যমে অনেক লোককে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।

আবার অনেক লোককে বেইজ্জতি করেন। অর্থাৎ যারা উহার উপর ঈমান আনে এবং আমল করে আল্লাহ তাদের ইজ্জত সম্মান দান করেন। আর যারা উহার উপর আমল করে না তাদেরকে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করেন। (মুসলিম) মহানবী (সাঃ) কে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে শিক্ষক রূপে পাঠিয়ে ছিলেন। তাই তিনি সব সময় শিক্ষা দেওয়ার চিন্তা ফিকিরে থাকতেন। কখনো আদেশ উপদেশ দিয়ে আবার কখনো নিজে করে শিক্ষা দিয়েছেন। একবার রাসূল (সা) সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি ইহা পছন্দ করো যে, প্রতিদিন সকাল বেলায় বাজারে গিয়ে কোনো রকম অন্যায় ছাড়া অতি উৎকৃষ্ট ধরনের দুই দুইটি উট নিয়ে আসবে। সাহাবারা জবাব দিলেন হ্যাঁ আমরা পছন্দ করি। নবী করীম (সাঃ) বললেন, মসজিদে গিয়ে দুটি আয়াত পাঠ করা অথবা শিক্ষা দেওয়া দুটি উট হতে এবং তিনটি আয়াত তিনটি উট হতে এবং চারটি আয়াত চারটি উট হতে উত্তম। এইভাবে যে কোন সংখ্যক আয়াত উহার সমসংখ্যক উটনী হতে উত্তম। সুবহানাল্লাহ (মুসলিম, আবু দাউদ) কুরআন শরীফ এমন মহাগ্রন্থ যার তেলাওয়াত শুনলেও নেকী হয়।

আল্লাহর হাবীব সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের আয়াত মনোযোগ সহকারে শুনবে তার দ্বিগুণ সওয়াব হবে আর যে তেলাওয়াত করবে তার জন্য নূর হবে। (আহমদ) কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের কয়েকটি আদব আছে যেমনঃ মেসওয়াক ও ওযু অবস্থায় পড়া। তেলাওয়াতের শুরুতে দরুদ শরীফ পড়া। আউযুবিল্লাহিমিনাশ শায়তানির রাজীম ও বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহীম পড়ে তেলাওয়াত শুরু করা। মিষ্ট ও মধুর স্বরে সুন্দর লাহনে স্পষ্টভাবে পড়া। আল্লাহর প্রতি অগাধ ভক্তি ও মুহাব্বত নিয়ে পড়া। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পড়া। গম্ভীরভাবে কাঁদার সুরতে পড়া। সেজদার আয়াত পড়িলে সেজদা আদায় করা ইত্যাদি। কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের বিশেষ তিনটি ফায়দা ও দুটি আদব লিখে শেষ করছি। ফায়দাগুলো হচ্ছে (এক) দিলের জং দূর হয় এবং দিল পরিষ্কার হয়। (দুই) আল্লাহ তায়ালার মুহাব্বত বাড়ে ও নৈকট্য লাভ হয়। (তিন) প্রতিটি হরফে কমপক্ষে ১০টি করে নেকী হয়। আদবগুলো হচ্ছে (এক) শ্রবণকারী মনে মনে এই খেয়াল করবে যে, এখানে মহান আল্লাহ তায়ালার কালামে পাক তেলাওয়াত হচ্ছে তাই খুব আজমত ও মনোযোগ সহকারে শুনি। (দুই) তেলাওয়াতকারী মনে মনে এই খেয়াল করবে যে, আমি মহান আল্লাহ কে শুনাইবার উদ্দেশে পড়ছি। যেন তিনি ইরশাদ করছেন শুনাও দেখি কে কত সহীহ ও সুন্দর করে পড়তে পারো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আমলের তৌফিক দান করুন। (আমিন)
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক-ইসলামী গবেষক
০১৭৩৪-৭১৮৩৬০