কাশ্মীরে পুলিশ পরিবারের ১১ সদস্যকে অপহরণ

কাশ্মীরে পুলিশ পরিবারের ১১ সদস্যকে অপহরণ

করতোয়া ডেস্ক : পরিবারের ১১ সদস্যের মুক্তি নিশ্চিত করতে গোপনীয়তার সঙ্গে কাশ্মিরের বিদ্রোহীদের প্রায় ১২ আত্মীয়কে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি। তবে বরাবরের মতো কাশ্মিরের বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে ভারতের মূলধারার সম্প্রচারমাধ্যমের ওয়েবসাইট। কাশ্মির পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপহৃত পুলিশ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এর বিনিময়ে বিদ্রোহীদের পরিবারের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়নি। কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকরণ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না।

 সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদিন সবচেয়ে সক্রিয়। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটিকে ভারতের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রও সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনা করে থাকে। আদর্শগতভাবে সংগঠনটি কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে।বুধবার এক হামলায় চার পুলিশ নিহত হওয়ার পর কাশ্মিরের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার রিয়াজ নাইকুর বাবা আসাদুল্লাহ নাইকুসহ বেশ কয়েজন আত্মীয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময়ে বিদ্রোহীদের সন্দেহে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুটি বাড়ি। এনডিটিভির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই ঘটনার জের ধরে বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশ্মিরের অনন্তনাগ, কুলগাম, সোপিয়ান ও পুলওয়ামা জেলায় বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১১জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই জিম্মী রয়েছে পুলিশ পরিবারের সদস্য। এনডিটিভি জানিয়েছে, তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে শুক্রবার পুলিশ যাদের মুক্তি দিয়েছে তাদের মধ্যে আসাদুল্লাহ নাইকু রয়েছেন।
]
 কাশ্মির পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেছেন, অপহৃত পুলিশ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করাকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এর বিনিময়ে বিদ্রোহীদের পরিবারের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়নি। কোন পর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তা তদন্ত কর দেখা হচ্ছে। এক টুইট বার্তায় পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করাকে স্বাগত জানিয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার রিয়াজ নাইকু। নিজ গ্রুপের সদস্যদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ‘চোখের বদলে চোখ’ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। বিদ্রোহীদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নতুন কোনও ঘটনা না হলেও প্রথমবারের মতো কোনও হামলার পর ব্যাপকহারে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান চালানো হলো। এক বছর আগে বিদ্রোহীরা কাশ্মিরের পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে অভিযান চালালেও কাউকে অপহরণ করেনি। গত বছর জম্মু ও কাশ্মির পুলিশ প্রধান শীষ পাল বৈদ্য বিদ্রোহীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন পুলিশ পরিবারের কোনও সদস্যকে হয়রানি করা হলে তার শোধ নেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যে ওই সমযে উত্তেজনা বেড়েছিল।