কালাইয়ে সিগারেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার

কালাইয়ে সিগারেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : নীতিমালা অমান্য করে জয়পুরহাটের কালাইয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে জনসাধারণ। পান-সিগারেটের দোকান, মুদির দোকান এমনকি কাপড়ের দোকানেও এসব গ্যাস সিলিন্ডার অবাধে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই এ উপজেলা শহর থেকে শুরু করে পাঁচটি ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলোতে। কালাই উপজেলার গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে অন্তত ৫০টিরও অধিক বিভিন্ন প্রকারের দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ এ উপজেলার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বৈধভাবে লাইসেন্স দেওয়া আছে প্রায় বিশজন ব্যবসায়ীকে। গত এক বছরে এ উপজেলাসহ পুরো জেলায় ৩০টি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছে। এমনকি গত বছরে এ উপজেলার কুজাইল-করিমপুর গ্রামে পীরের আস্তানায় বাৎসরিক নবান্ন উৎসবের মেলাতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাখাওয়াত নামে একজনের পা উড়ে গিয়েছে। সে এখন ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসেও ক্ষেতলাল উপজেলার মুন্দাইল ও জয়পুরহাট পৌর শহরের হাউজিং এস্টেটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদফতর সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা করতে হলে একজন ব্যবসায়ীকে সরকারি বিধি মোতাবেক কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে।

একজন ব্যবসায়ী এসব সবশর্ত পূরণ করলেই কেবল এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোনও দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না। ২০০৩ সালের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করে, তবে তার তিন বছরের কারাদন্ড ও অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত মালামাল বাজেয়াপ্ত করাও যাবে। কিন্তু এই আইন কেউই মানছেন না এ উপজেলা শহরে। কালাই উপজেলা শহরের বাসিন্দা কামরুল হাসান, পুনট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনিছুর রহমান, জিন্দারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল মিয়া, মাত্রাই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফ আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দেয়া দরকার। সরকারিভাবে এসব বাজারে তদারকি না থাকার কারণে যত্রতত্র ভাবে চলছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। আগের মত আর ডিলারদের নিকট গিয়ে আনতে হয়না গ্যাস সিলিন্ডার। হাত বাড়ালেই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায় এ উপজেলার সবখানে। ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলছে এসব দোকানের আশপাশ দিয়ে। যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। তখন আর তদারকি করে কোন লাভ হবে না। লাইসেন্সধারী এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই জানান, গ্যাস সিলিন্ডার অনেকটা বোমার মতো। এসব সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে অবশ্যই পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স, বিস্ফোরক লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা না হলে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবে না অন্য কেউ। তারা আরও বলেন, বিস্ফোরক লাইসেন্স নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। যাদের লাইসেন্স নেই, তারা সকলেই অবৈধ।

অবৈধ ব্যবসায়ীদের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন খরচের কারণে কম দামে বিক্রি করতে না পারায় দিন দিন তারা ব্যবসাতে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। জয়পুরহাট জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহবুব-উ-জ্জামান মানিক বলেন, লাইসেন্স ছাড়া যারা ব্যবসা করছে তাদের আমরা লাইসেন্স করতে বলছি। এছাড়া ডিলারদের খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স দেখে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে বলা হয়েছে। তারপরও কেন এমন হচ্ছে এবং যেখানে সেখানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া এলপি গ্যাস সিলিন্ডার যারা বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।