কারাগারে খালেদার বিচার, নিরাপত্তা জোরদার

কারাগারে খালেদার বিচার, নিরাপত্তা জোরদার

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার সম্পন্ন করতে পুরাতন ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের বসছে আদালত। এ উপলক্ষে কারাগারের আশপাশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ আদালতে শুরু হচ্ছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি।

শুনানিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরাতন কারাগারের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে আশপাশের দোকানপাটও। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

টহলরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আদালতের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সড়ক দিয়ে যাওয়া প্রত্যেক পথচারীর শরীর তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো রিকশাও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না কারাগারে পাশের রাস্তায়।
খালেদা জিয়ার শুনানিকে কেন্দ্র করে পুরাতন কারাগার এলাকায় জোর নিরাপত্তা | ছবি: ডিএইচ বাদলগত মঙ্গলবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিভাগ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার সম্পন্ন করতে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে গেজেট প্রকাশ করে।

আইন মন্ত্রণালয়ের ওই গেজেটে বলা হয়, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত থেকে নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর-৭ কে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে সেখানেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হবে।   

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। এরপর থেকে তারিখ পড়লেও ‘অসুস্থ থাকায়’  চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির হতে পারেননি তিনি।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন সাক্ষী। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। এ ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে এ মামলা করেছে দুদক।